মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে বহু আলোচিত শান্তিচুক্তি রোববারই (১৪ জুন) স্বাক্ষরিত হবে। তবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেছে, এখনো কোনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি ও রোববার স্বাক্ষরের প্রশ্নই আসে না।
আইআরজিসির দাবি, ১৪ জুন নিজের জন্মদিন হওয়ায় ট্রাম্প দিনটিকে প্রতীকীভাবে ব্যবহার করতে চাইছেন।
শনিবার (১৩ জুন) ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি ‘আগামীকাল স্বাক্ষরের জন্য নির্ধারিত’ রয়েছে। তার দাবি, চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবারও উন্মুক্ত হবে।
যদিও তেহরানও ইঙ্গিত দিয়েছে যে উভয় পক্ষ একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে, তবু চুক্তি স্বাক্ষরের সময়সূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা শুক্রবার জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলে সেটি বাস্তবায়নের পদ্ধতি নির্ধারণে নতুন করে ৬০ দিনের আলোচনা পর্ব শুরু হবে।
অন্যদিকে, আইআরজিসি এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের রোববার চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তারা বলেছে, এটি ইরানের আলোচক দলের জন্য এক ধরনের ‘পরীক্ষা’।
বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ভাষ্য, ইরানের আলোচকরা স্পষ্টভাবে বলেছেন যে সমঝোতা স্মারক এখনো চূড়ান্ত হয়নি ও রোববার স্বাক্ষর হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এরপরও ট্রাম্প এমন ঘোষণা দিয়েছেন।
টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বার্তায় আইআরজিসি আরও দাবি করে, ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে রোববার চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ নির্ধারণ করতে চাইছেন। তাদের মতে, ১৪ জুন ট্রাম্পের জন্মদিন হওয়ায় তিনি দিনটিকে নিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, কিছু পর্যবেক্ষকের বিশ্বাস, ট্রাম্পের এই জোরাজুরির পেছনে ব্যক্তিগত প্রচারণার উদ্দেশ্য রয়েছে। তিনি দিনটিকে নিজের প্রচারের একটি বড় উপলক্ষ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নিবিড় কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সময় ও শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে এখনো উল্লেখযোগ্য অমিল রয়ে গেছে।









