নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ১৫শ মানুষ।
বুধবারের এই বন্যায় উত্তর ও মধ্য নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘরবাড়ি, সেতু, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো ভেসে গেছে। নিখোঁজদের সন্ধানে নদীর তীর ও ভাটির বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।
কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার সকালে নেপালের রাসুওয়া ও আশপাশের জেলাগুলোতে ভয়াবহ বন্যা আঘাত হানে। প্রবল পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাদা ও ধ্বংসাবশেষ ভেসে আসে।পরে এই স্রোত ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদীতে গিয়ে পড়ে এবং ভাটির দিকে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
বন্যার কারণে অনেক জনপদ ও পর্যটন এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে নেপালের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। বিচ্ছিন্ন এলাকায় পৌঁছাতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থলপথে নদীর তীর ও ভাটির জনপদগুলোতে নিখোঁজদের সন্ধান চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
এই দুর্যোগে পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের একটি বড় অংশও নিখোঁজ রয়েছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত বন্যাকবলিত এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৫শ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারীর খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাদের মধ্যে ১২৭ জন নেপালি নাগরিক।
রাসুওয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিং এলাকায় বুধবার সকালে যারা অবস্থান করছিলেন বা যাতায়াত করছিলেন, তাদের অবস্থান শনাক্তে পর্যটন বোর্ড, সংস্কৃতি, পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়, পর্যটন পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।
নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। এ পর্যন্ত ৩১ বিদেশি নাগরিককে দুর্গত এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ভারতীয়, চারজন দক্ষিণ কোরীয়, দুজন মার্কিন, দুজন রুশ, দুজন ইতালীয়, একজন বুলগেরীয় এবং একজন সুইস নাগরিক রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া বাকি ১৮ জনের জাতীয়তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
নিখোঁজ পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের সন্ধানে ভ্রমণ সংস্থা, ট্রেকিং কোম্পানি, গাইড, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করছে পর্যটনসংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
বন্যার প্রবল স্রোতে ওই অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক সড়ক ও সেতু ভেসে যাওয়ায় দুর্গত এলাকায় পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকারী দলকে।
কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া নিহত ও নিখোঁজের তথ্য মিলিয়ে দেখছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।









