৩১ বছর বয়সেই স্পেন জাতীয় দলকে বিদায় জানালেন মার্কোস ইয়োরেন্তে। গতকাল আতলেতিকো মাদ্রিদের এই ডিফেন্ডার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন।
তিনি যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপাজয়ী স্পেন স্কোয়াডের অন্যতম সদস্য ছিলেন। বিশ্বজয়ের এই ঐতিহাসিক মিশনে তিনি তিনটি ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন।
২০২০ সালে অভিষেকের পর স্পেনের হয়ে মোট ২৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন এই রাইট-ব্যাক। তিনি ২০২১ সালের ইউরো কাপে খেললেও ২০২৪ সালের ইউরো জয়ী দলে জায়গা পাননি।তবে ২০২২ এবং ২০২৬; এই দুটি বিশ্বকাপেই তিনি জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। একটা সময় তিনি এই পজিশনে দলের প্রধান অটোমেটিক চয়েস থাকলেও পরবর্তীতে পেদ্রো পোরোর কাছে নিজের জায়গা হারান।পোরো এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের অন্যতম সেরা পারফর্মার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বিদায়ী বার্তায় ইয়োরেন্তে লিখেছেন, ‘অনেক চিন্তাভাবনার পর আমি জাতীয় দল থেকে বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি জানি আমার বয়স এখনও কম এবং হয়তো ভবিষ্যতে ভালো খেলতে থাকলে আরও কয়েক বছর এই জার্সিতে মাঠ মাতাতে পারতাম। অনেকে হয়তো এই সিদ্ধান্তটি বুঝতে চাইবেন না, সত্যি বলতে আমি বাইরে থাকলেও হয়তো সহজে বুঝতাম না। তবে এটি আমার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত, সুচিন্তিত এবং হৃদয় থেকে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা বিশ্বকাপে অংশ নিতাম কি না কিংবা শিরোপা জিততাম কি না, তা নির্বিশেষে এই সিদ্ধান্তটি আমি অনেক আগেই নিয়ে নিয়েছিলাম। গত কয়েক বছরে যাদের সাথে আমার দেখা হয়েছে এবং যারা আমার পরিবারকে এই অবিস্মরণীয় মুহূর্তগুলো উপহার দিয়েছেন, তাদের সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আমি সব স্মৃতি হৃদয়ে লালন করব, বিশেষ করে শেষ ৫২ দিনের সেই দারুণ সময়গুলো। আমরা একটি চমৎকার দল হিসেবে লড়াই করে স্পেনকে ফুটবলের শিখরে পৌঁছে দিয়েছি। নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করা এবং ইতিহাসের অংশ হতে পারাটা ছিল এক বিশাল সম্মান। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ।’
ইয়োরেন্তের এই আবেগঘন পোস্টের নিচে স্পেন এবং আতলেতিকো মাদ্রিদের সতীর্থরা তাকে ভালোবাসা জানিয়েছেন এবং তার চলে যাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। ইয়োরেন্তের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী পেদ্রো পোরোর মন্তব্যটি ছিল বিশেষভাবে উল্লেখ করার মতো। বর্তমানে দলের একাদশে থাকা এই ফুল-ব্যাক লিখেছেন, ‘ভাই, তোমার সাথে জাতীয় দলে ড্রেসিংরুম শেয়ার করাটা আমার জন্য সম্মানের বিষয় ছিল। মাঠের ভেতরে এবং বাইরে আমি সবসময় তোমার সাফল্য কামনা করি।’









