পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার উপ-নির্বাচনে ‘বিজেপির দুর্গে’ ধস নামিয়েছেন ভোটকুশলী হিসেবে খ্যাত প্রশান্ত কিশোর। সরাসরি ভোটের লড়াইয়ে নেমেই জয় ছিনিয়ে আনলেন এই সাবেক কুশলী।
ভারতীয় জনতা পার্টির দুর্গ খ্যাত বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রে উপ-নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন তিনি। ১৯ হাজার ভোটে বিজেপি প্রার্থী নীরজ কুমারকে পরাজিত করেছেন। প্রশান্ত কিশোরের হাত ধরেই বিহার বিধানসভায় আসন পেল জন সুরাজ পার্টি।
গত এপ্রিলে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন।
যার জেরে বাঁকিপুর কেন্দ্রে উপনির্বাচনের প্রয়োজন পড়ে।
৩০ জুলাই ভোটগ্রহণ হয় এই কেন্দ্রে। সোমবার (৩ আগস্ট) উপনির্বাচনের ভোটগণনা হয়। গণনার প্রথম থেকেই এগিয়ে ছিলেন প্রশান্ত কিশোর।
১৯৯৫ সাল থেকে এখানে হারেনি বিজেপি। সেই সময় অবশ্য ওই কেন্দ্রের নাম ছিল পাটনা পশ্চিম। নবীনের বাবা কিশোর প্রসাদ সিনহা ১৯৯৫ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত একাধিকবার এই কেন্দ্রের বিধায়ক হন। তাঁর মৃত্যুর পর ২০০৬ সালে উপনির্বাচনে এখানে জয়ী হয়েছিলেন নীতীন। তার পর থেকে নীতীন ও বাঁকিপুর ছিল কার্যত সমার্থক শব্দ।
এই অবস্থায় ৩০ বছরের বিজেপির দুর্গ বাঁকিপুর ধরে রাখা ছিল অন্যতম চ্যালেঞ্জ।
যেখানে ২০২৫ সালের নভেম্বরে বিধানসভা নির্বাচনে কিশোরের দল শেষ করেছিল শূন্যতে। বিধানসভায় নির্বাচনে ২৩৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে একটিতেও জিততে পারেনি জন সুরাজ পার্টি।
তবে আজকের দিনটি ছিল ভিন্ন। গণনা শুরুর পর থেকেই এগিয়ে রয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। তখন থেকেই স্পষ্ট হচ্ছিল ছবিটা। ৩১ রাউন্ডের গণনার পর দেখা গেল পিকে নামে পরিচিতি প্রশান্তই জয়লাভ করেছেন।
অন্য দিকে, মধ্যপ্রদেশের দতিয়ায় কংগ্রেস প্রার্থী ঘনশ্যাম সিংহ ছয় হাজারের বেশি ভোটে বিজেপির আশুতোষ তিওয়ারিকে হারিয়েছেন। ২০২৩ সালের বিধানসভা ভোটে জয়ী কংগ্রেস বিধায়ক রাজেন্দ্র ভারতী আদালতের রায়ে একটি দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ওই আসনটি শূন্য হয়েছিল। ২০২৩ সালে বিজেপি দতিয়ায় প্রায় ৪৬ শতাংশ ভোট পেলেও এবার তা ৩৯ শতাংশেরও নিচে নেমেছে।
গুজরাটের মঞ্জলপুরে ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ৭৬ শতাংশ ভোট পেলেও এবার বিজেপি প্রার্থীর ঝুলিতে গিয়েছে ৬৭ শতাংশ। কংগ্রেসের ভোট ১২ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩০ শতাংশ।









