সমগ্র যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট এর কড়াকড়ি আরও বেড়েছে, আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। জুলাই মাসে দেশজুড়ে ৪৬ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস), যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এক মাসে সর্বোচ্চ আটকের রেকর্ড। সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) অভ্যন্তরীণ তথ্যের ভিত্তিতে এ বিষয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, চলতি সালের জুলাই মাসের আটকের সংখ্যা জুন মাসের তুলনায়ও বেশি। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে “আইস” এর হেফাজতে প্রায় ৬৮ হাজার ব্যক্তি রয়েছেন, যা সংস্থাটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও জোরদারের নির্দেশনার পরই এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে আইস এর অভিযান শুধু কর্মস্থল বা নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই। বিমানবন্দর, ইমিগ্রেশন চেক-ইন অফিস, ট্রাফিক স্টপ, আদালত প্রাঙ্গণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কমিউনিটিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে বৈধ কাগজপত্র না থাকা বা অভিবাসন সংক্রান্ত জটিলতায় থাকা অনেক অভিবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।
বিশেষ করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও অভিবাসন যাচাই কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আইনজীবীরা পরামর্শ দিচ্ছেন, যাদের অভিবাসন মামলা চলমান বা যাদের বৈধ অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে, তারা ভ্রমণের আগে আইনি পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখুন।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন তিন লাখের বেশি হাইতিয়ান অভিবাসীর টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। এর ফলে এসব অভিবাসীর একটি বড় অংশ বহিষ্কারের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন, যদি তারা অন্য কোনো বৈধ অভিবাসন সুবিধা অর্জন করতে না পারেন।
অভিযান জোরদারের মধ্যেই গত মাসে টেক্সাস ও মেইনে পৃথক ঘটনায় আইস কর্মকর্তাদের গুলিতে দুই অভিবাসীর মৃত্যুর ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দুটি ঘটনাই এখনও তদন্তাধীন রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ দাবি করেছে, বর্তমান প্রশাসনের অভিযানের ফলে এখন পর্যন্ত ৩০ লাখের বেশি অবৈধ অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছেন। বিভাগের তথ্যমতে, এর মধ্যে আনুমানিক ২২ লাখ ব্যক্তি স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ করেছেন। একই সময়ে ৯ লাখ ৮৫ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে বহিষ্কার এবং ১০ লাখের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে এসব পরিসংখ্যান হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নিজস্ব তথ্য। এগুলোর সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ফলে যাদের অভিবাসন আবেদন বিচারাধীন, যাদের টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা অন্যান্য অস্থায়ী সুবিধা রয়েছে, কিংবা যাদের বৈধ অবস্থান নিয়ে কোনো জটিলতা আছে, তাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনে অভিজ্ঞ লাইসেন্সধারী ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।










