জাপানের টোকিওতে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ দূতাবাসের সম্মেলনকক্ষে জুলাই শহীদ দিবস পালিত হয়েছে।
শহীদ আবু সাঈদসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিবসটির সূচনা হয়।
এ সময় শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়। দূতাবাসের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার মাধ্যমে এই শোকাবহ দিবসটিকে যথাযথ মর্যাদায় স্মরণ করা হয়।
আলোচনা সভায় রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ও শহীদের ত্যাগের মহিমা তুলে ধরে বলেন, স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে শহীদ আবু সাঈদ যেভাবে অকুতোভয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, সেই আত্মত্যাগই মূলত ছাত্র আন্দোলনকে একটি গণআন্দোলনে রূপান্তর করতে এবং দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করতে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা একটি সমতার রাষ্ট্র, ফ্যাসিবাদমুক্ত ও গুম-খুনমুক্ত সুশাসনের রাষ্ট্র গঠনের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার ফিরে পেয়েছি, যা আমাদের জন্য এক নতুন আশার বার্তা। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে দেশে যে গণতান্ত্রিক ধারা এবং সুশাসনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা আমাদের জাতি তথা দেশ গঠনে নতুন গতি সঞ্চার করেছে।
সরকারের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও সমর্থনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বর্তমান সরকার অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। জনগণ যে আশা নিয়ে দেশ পুনর্গঠনের স্বপ্ন দেখছে, তা বাস্তবায়নে সরকার সফল হবে-এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা থাকবে। শহীদের স্বপ্নের সেই রাষ্ট্র গঠনে সরকারের প্রতিটি ইতিবাচক উদ্যোগকে সফল করতে আমরা দূতাবাসের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।
তিনি বলেন, আমরা সবাই মিলে সরকারের হাতকে শক্তিশালী করতে চাই, যেন জনগণের কাঙ্ক্ষিত কার্যকর রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার বিশ্বমঞ্চে অনন্য ভূমিকা পালন করতে পারে। শহীদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত, আহতদের সুস্থতা, দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার সরকারি তথ্য বিবরণীতে এসব তথ্য জানা গেছে।









