তৃতীয় স্থান নির্ধারণী এই ম্যাচকে খোদ ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড অর্থহীন মনে করছিল। সেই দুই দলই এমন এক থ্রিলার উপহার দিল, যেটিকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা ম্যাচগুলোর সংক্ষিপ্ত তালিকায় না রেখে এখন আর উপায় নেই!
মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়াম সাক্ষী হয়ে রইল ১০ গোলের।
এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের এই ম্যাচে ফ্রান্সকে ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো তৃতীয় হলো ইংল্যান্ড।
বিশ্বকাপে এর আগে সর্বোচ্চ গোলের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও জড়িয়ে ফ্রান্সের নাম। ১৯৫৮ আসরে পশ্চিম জার্মানিকে ৬-৩ গোলে হারিয়ে তৃতীয় হয়েছিল ফরাসিরা। ৬৮ বছর পর এবার তারাই হজম করল ৬ গোল!
১৯৬৬ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এটিই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ সাফল্য।
তৃতীয় হয়ে ইংলিশরা ব্রোঞ্জ পদকের সঙ্গে পেল প্রায় ৩৫৫ কোটি টাকা। চতুর্থ হয়ে ফ্রান্স পেল প্রায় ৩৩০ কোটি টাকা।

সেমিফাইনালে হেরে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে যাওয়ায় দুই দলই এই ম্যাচকে গুরুত্বহীন মনে করেছিল।
তাই দুই দলই প্রায় দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে খেলতে নামে। ফ্রান্সের কোচ হিসেবে শেষবারের মতো ডাগআউটে দাঁড়ানো দিদিয়ের দেশম একাদশে আনেন সাত পরিবর্তন। ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলের একাদশে আট পরিবর্তন।
নিখাদ আনন্দ দিতে ও উপভোগের মন্ত্র নিয়ে খেলতে নামাতেই বোধ হয় রক্ষণভাগ পুরোপুরি অরক্ষিত রয়ে গেল। অবিশ্বাস্যের ঘোর লাগিয়ে ইংল্যান্ড প্রথমার্ধেই এগিয়ে গেল ৪-০ গোলে!
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা ইংল্যান্ডের কোনো ফুটবলারের এবারের বিশ্বকাপে গোল করতে না পারার যে আক্ষেপ ছিল, তা অবশেষে উবে গেল।
প্রথমার্ধের সব গোলই করলেন নিজেদের লিগে খেলা তিন ফুটবলার। শুরুটা করলেন ডেকলান রাইস, এরপর এজরি কনসা। আর বিরতিতে যাওয়ার আগে জোড়া গোল করলেন বুকায়ো সাকা।
অফসাইডের ফাঁদে না পড়লে প্রথমার্ধে হ্যাটট্রিকও পেয়ে যেতে পারতেন সাকা। অবশ্য হ্যাটট্রিক পূরণ করেছেন দ্বিতীয়ার্ধে। পরে যোগ করা সময়ে ইংল্যান্ডের ষষ্ঠ ও ম্যাচের শেষ গোল করেন বদলি নামা জুড বেলিংহাম।
প্রথমার্ধে ৪ গোল খেয়েও অবশ্য মনোবল ভাঙেনি ফ্রান্সের। বিরতির পর মাত্র ২১ মিনিটের মধ্যে ৩ গোল শোধ করে খেলা জমিয়ে তোলার আভাস দেয় দেশমের দল।
৪৮ মিনিটে অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলে ব্যবধান কমাতে শুরু করে ফ্রান্স। ৫৪ মিনিটে ব্র্যাডলি বারকোলার পর ৬৬ মিনিটে আবার এমবাপ্পের গোল। এর মধ্য দিয়ে লিওনেল মেসিকে (২১) ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা বনে যান এমবাপ্পে (২২)। এবারের আসরে ১০ গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও এগিয়ে গেছেন তিনি।

এরপর মাইকেল ওলিসে ও উসমান দেম্বেলে একের পর এক সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন। নয়তো ঘুরে দাঁড়ানোর অভাবনীয় এক গল্প লিখতে পারত ফ্রান্স। যোগ করা সময়ে দেম্বেলে ইংল্যান্ডের জাল কাঁপালেও ফ্রান্সের কোচ হিসেবে নিজের শেষ ম্যাচে সবচেয়ে বেশি গোল খেয়ে হারের ‘লজ্জা’ এড়াতে পারেননি দেশম।









