বলকান অঞ্চলের দেশ বসনিয়া-হ্যারৎসেগোভিনা থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশ ক্রোয়েশিয়ায় অনিয়মিত পথে ঢোকার চেষ্টারত ৯৬ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে আটক করেছে বসনিয়া-হ্যারৎসেগোভিনার সীমান্ত পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের নাগরিকেরা রয়েছেন।
বসনিয়ার সীমান্ত পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার উত্তর বসনিয়ার বিস্ত্রিচা এলাকার কাছে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টার সময় দুই দফায় এসব অভিবাসনপ্রত্যাশীকে আটক করা হয়।
প্রথম অভিযানে ৬৩ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৪০ জন পাকিস্তানি এবং ২৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন।
বসনিয়া-হ্যারৎসেগোভিনা সীমান্ত পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একই এলাকায় পরে আরেকটি অভিযানে আরো ৩৩ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে দুইজন পাকিস্তানি, ১৩ জন বাংলাদেশি এবং ১৮ জন আফগান নাগরিক ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, সীমান্ত নজরদারি অভিযানের সময় অনিয়মিতভাবে সীমান্ত পারাপারের এই দুটি চেষ্টা শনাক্ত করা হয়। ঘটনাস্থলে তদন্ত চালানোর পর অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ব্যবহারের জন্য রাখা দুটি নৌকা জব্দ করা হয় এবং মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুইজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে বসনিয়ার বিদেশি বিষয়ক পরিষেবার বানিয়া লুকা ফিল্ড সেন্টারকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত ও পরবর্তী কার্যক্রম চলছে।
এর আগে ক্রোয়েশিয়া-বসনিয়া সীমান্ত এলাকার উনা নদীতে অভিবাসী বহনকারী একটি নৌকা ডুবে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবারের এই ঘটনায় আরো কয়েকজন নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে জাগরেব থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার (৫৬ মাইল) দক্ষিণ-পূর্বে হ্রভাতস্কা কোস্টাইনিকা এলাকায় সীমান্ত পুলিশ উনা নদী থেকে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে মানুষের আর্তনাদ শুনতে পায়। পুলিশের বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
জরুরি পরিষেবার কর্মীরা নদী থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। একই ঘটনায় জীবিত অবস্থায় আরো দুইজনকে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে একজন চীনা নাগরিক ছিলেন। পরে পুলিশ মানবপাচারের অভিযোগে একজন বসনিয়ান নাগরিককে গ্রেপ্তার করে।
উদ্ধারকারী দল ও পুলিশ সোমবার রাতেও নদীতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়েছে। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, নৌকাটি ডুবে যাওয়ার সময় এতে অন্তত আটজন আরোহী ছিলেন।
বলকান রুট দিয়ে ইউরোপে আসার চেষ্টা করা অনিয়মিত অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য ক্রোয়েশিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট দেশ। বসনিয়া-হ্যারৎসেগোভিনা পেরিয়ে তারা ক্রোয়েশিয়ায় প্রবেশের চেষ্টা করেন।
ইইউ-এর সীমান্ত সংস্থা ও কোস্টগার্ড ফ্রন্টেক্স-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে বলকান রুটে চার হাজার ৯০০টির বেশি অবৈধ সীমান্ত পারাপারের ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ২৬ শতাংশ কম।
ফ্রন্টেক্স জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বলকান রুট ধরে ইউরোপে পৌঁছেছেন ১২ হাজার ৫০০ জনের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মতে, ২০১৪ সাল থেকে এই রুটে ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন।









