পার্বত্য জেলা বান্দরবানে গত ৮ দিনের টানা বৃষ্টিপাতে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি জমে বাসা-বাড়ী আর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে। সাংগু আর মাতামুহুরী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় নদীর তীরবর্তী আর নিম্মাঞ্চলে থাকা ঘরগুলো পানিতে নিমজ্জিত ছিল।
তবে গতকাল থেকে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় আর সাংগু ও মাতামুহুরী নদীর পানি নেমে যাওয়ায় সাধারণ জনগণের জীবনে এখন কিছুটা স্বস্তি নেমে এসেছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল থেকেই আকাশে রোদের দেখা মিলায় অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে নিজ নিজ বাড়িতে গিয়ে বন্যার পানি আর কাদা পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছেন।
পানি কমে যাওয়ায় জেলা সদরের আর্মিপাড়া, মেম্বারপাড়া, কাশেমপাড়া, ইসলামপুর, হাফেজঘোনা, ক্যাচিংঘাটা ও বালাঘাটা এলাকার বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ও দোকানপাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ শুরু করেছে।
জেলা সদরের আর্মিপাড়ার বাসিন্দা রোকেয়া জানান, গত কয়েকদিনের বৃষ্টি আর বন্যার পানিতে ঘরের সব মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে, ঘরে কোনো খাবারই নেই।পরিবার পরিজন নিয়ে অনেক কষ্টে আছি।
ইসলামপুরের বাসিন্দা রিপন জানান, সড়কে চলাচলের মতো অবস্থা নেই, সর্বত্র কাদা আর কাদা।
এদিকে সড়ক থেকে পানি নেমে যাওয়ায় বান্দরবান থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের সঙ্গে দূরপাল্লার বাস চলাচল শুরু হয়েছে। সকাল থেকে বান্দরবানের প্রধান সড়কে বাসের পাশাপাশি ছোট ছোট যানবাহনগুলো চলাচল করছে।
এদিকে প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছে, পরিস্থিতির উন্নতি হলেও অনেক মানুষ এখনও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে এবং তাদের দুবেলা খাবারের পাশাপাশি আগামীতে পুনর্বাসনে সরকারিভাবে সহায়তা করা হবে।
বান্দরবান পৌরসভার প্রশাসক এস এম মনজুরুল হক জানান, আমরা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা সংগ্রহ করছি এবং যারা এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে তাদের খাবার পানি ও রান্না করা খাবার বিতরণ অব্যাহত রেখেছি।









