২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নজরকাড়া পারফরম্যান্সের পর এখনও উৎসবের আবহে রয়েছে মিশর। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত আসরে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্ব অতিক্রম করে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়ে দেশের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখেছে ফারাওরা। সেই অর্জনকে ঘিরে দেশে ফিরেই সংবর্ধনা ও উদযাপনে ভাসছেন মোহামেদ সালাহরা।
গত শুক্রবার জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের স্বাগত জানাতে রাজধানী কায়রোতে জড়ো হয়েছিল বিপুলসংখ্যক সমর্থক। মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিও দলকে অভিনন্দন জানিয়ে তাদের এই সাফল্যের প্রশংসা করেন। ঐতিহাসিক এই বিশ্বকাপ অভিযানের স্বীকৃতি হিসেবে রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও খেলোয়াড়দের সম্মান জানানো হয়।
উদযাপনের ধারাবাহিকতায় সোমবার আয়োজন করা হয় ‘১০০ মিলিয়ন ধন্যবাদ’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানের। কায়রোর জাতীয় স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ছাদখোলা একটি বাসে করে মাঠ প্রদক্ষিণ করেন অধিনায়ক মোহামেদ সালাহ ও তার সতীর্থরা। গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার দর্শক করতালি, স্লোগান ও উচ্ছ্বাসে খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানান। পুরো স্টেডিয়াম উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়, আর রাতের আকাশ রঙিন করে তোলে জমকালো আতশবাজির প্রদর্শনী।
শুধু স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকরাই নন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছিল এই আয়োজনের ব্যাপক সাড়া। অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হলে ৫ কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ তা অনুসরণ করেন। আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সংগীত পরিবেশনা। শেষ পর্বে জনপ্রিয় মিশরীয় অভিনেতা ও সংগীতশিল্পী তামের হোসনির কনসার্ট দর্শকদের বাড়তি উচ্ছ্বাস এনে দেয়।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে এবার ছিল মিশরের তৃতীয় অংশগ্রহণ। তবে আগের দুই আসরের তুলনায় এবারের অভিযান ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জয়ের স্বাদ পায় দলটি। গ্রুপ পর্বে দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ জয় তুলে নেয় তারা। এরপর বেলজিয়াম ও ইরানের বিপক্ষে ড্র করে গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে।
শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নির্ধারিত সময় ১-১ সমতায় শেষ হলেও টাইব্রেকারে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেয় মিশর। সেই জয়ই নিশ্চিত করে তাদের ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ সাফল্য।
শেষ ষোলোর ম্যাচে শক্তিশালী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শুরুতে দারুণ চমক দেখায় ফারাওরা। একপর্যায়ে ২-০ ব্যবধানে এগিয়েও গিয়েছিল তারা। তবে ম্যাচের শেষদিকে আর্জেন্টিনা মাত্র ১৩ মিনিটের ব্যবধানে তিনটি গোল করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। নাটকীয় সেই প্রত্যাবর্তনের ফলে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয় মিশরকে।
যদিও শিরোপার লড়াইয়ে এগিয়ে যেতে পারেনি দলটি, তবুও এবারের বিশ্বকাপে তাদের পারফরম্যান্স দেশটির ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাই বিদায়ের আক্ষেপকে ছাপিয়ে এখন মিশরজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে একটি স্মরণীয় বিশ্বকাপ অভিযানের সাফল্য।









