ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন ৭১০ জন অভিবাসী। ২০২৬ সালের পর এটিই এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক অভিবাসীর আগমনের ঘটনা।
সোমবার ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে এই তথ্য উঠে এসেছে।
চলতি বছরের জুন মাসের শুরু থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত চ্যানেল পাড়ি দিয়ে কোনো অভিবাসীর আগমন নিবন্ধিত হয়নি। তবে সোমবারের এই বড় দলটির আগমনের মধ্য দিয়ে সেই ধারা ভেঙেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৯ হাজার ৮৫২ জন অভিবাসী অনিয়মিতভাবে ব্রিটিশ উপকূলে পৌঁছেছেন। যদিও এই সংখ্যাটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪০ শতাংশ কম।
২০২৫ সালে ছোট নৌকায় করে মোট ৪১ হাজার ৪৭২ জন অভিবাসী যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছিলেন, যা ২০১৮ সালের পর থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বার্ষিক সংখ্যা।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার দেশের সীমান্তের ওপর ‘পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার’ দৃঢ় অঙ্গীকার করেছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি তার সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
একদিকে কট্টর ডানপন্থি দল ‘রিফর্ম ইউকে’ এবং এর নেতা নাইজেল ফারাজ জনমত জরিপে জনপ্রিয়তা ধরে রেখে সরকারকে চাপের মুখে রেখেছেন।
অন্যদিকে, নিজ দলের অভ্যন্তরেও সমালোচনার মুখে পড়েছেন স্টারমার। সাম্প্রতিক এই ঘটনা ডাউনিং স্ট্রিটে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপর নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা রোধে গত এপ্রিল মাসে লন্ডন ও প্যারিস তিন বছর মেয়াদি একটি নতুন চুক্তিতে সই করেছে। এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাজ্যের আর্থিক সহায়তার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
নতুন চুক্তি অনুযায়ী, ফ্রান্সকে যুক্তরাজ্য মোট ৭৬৬ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা দেবে, যা আগের মেয়াদের ৫৪০ মিলিয়ন ইউরো থেকে বেশি। এর পাশাপাশি, পরিস্থিতির প্রয়োজনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রথমবারের মতো ১৮৬ মিলিয়ন ইউরো ‘নমনীয় তহবিল’ হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।








