ইন্দোনেশিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় সুলাওয়েসি দ্বীপে ৬ দশমিক ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে বেশ কিছু এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
শক্তিশালী এই কম্পনে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে আট বছর আগে ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামিতে বিধ্বস্ত হওয়া পালু শহরের মানুষ নতুন করে বড় বিপদের আশঙ্কায় ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল পালু শহর থেকে প্রায় ৪৩ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে এবং কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার। মূল ভূকম্পনের পর বেশ কয়েকটি আফটারশক বা অনুকম্পন অনুভূত হয়, যার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ২।
প্রায় চার লাখ মানুষের শহর এবং মধ্য সুলাওয়েসি প্রদেশের রাজধানী পালুর বাসিন্দারা তীব্র কম্পন অনুভূত হতেই খোলা জায়গায় ছুটে যান। নিরাপত্তার স্বার্থে বেশ কয়েকটি হাসপাতাল থেকে রোগীদের বাইরে নিয়ে আসা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় গণমাধ্যমে আসা ছবিতে দেখা গেছে, বেশ কিছু ভবনের ছাদ আংশিক ধসে পড়েছে, দেয়াল ফেটে গেছে এবং রাস্তাঘাটে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি, সম্ভাব্য হতাহত এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের তথ্য এখনো সংগ্রহ করা হচ্ছে।
পালু শহরের একটি চার তারকা হোটেলের জেনারেল ম্যানেজার এফেন্দি নাতালি বলেন, আমরা হোটেলের সব অতিথিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছি। ভূমিকম্পের সময় সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন, যা খুবই স্বাভাবিক। তবে সবাই নিরাপদ আছেন। তিনি আরও জানান, তার হোটেলের সামান্য ক্ষতি হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর সুনামির আশঙ্কায় উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। তবে ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূপ্রকৃতিবিদ্যা সংস্থা (বিএমকেজি) জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই। তবে পরবর্তী অনুকম্পন বা আফটারশক অব্যাহত থাকতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছে।
মুহতার আহমদ নামের পালু শহরের এক বাসিন্দা বলেন, ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল। আমরা আগের ভূমিকম্পের ট্রমা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি। তাই আফটারশকের ভয়ে আমরা ঘরের বাইরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম একটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল। বেশ কয়েকটি টেকটোনিক ফল্ট লাইনের ওপর অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে।
২০১৮ সালে পালু শহরে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। সে সময় তিন মিটার উঁচু সুনামি এবং মাটির তরলীকরণ প্রক্রিয়ার কারণে পুরো এলাকা মাটির নিচে তলিয়ে যায়। ওই বিপর্যয়ে চার হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। এ ছাড়া ২০২১ সালের জানুয়ারিতে সুলাওয়েসির মামুজু শহরের কাছে ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ১০০ জন নিহত হন।









