যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় শিশুসহ ১৫ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৩ মে) লেবাননের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, সড়ক এবং হাসপাতালের আশপাশে একের পর এক হামলা চালানো হয় বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়াহ জেলার সাইর আল-ঘারবিয়া এলাকার একটি আবাসিক ভবনে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
এছাড়া টাইর শহরের উত্তরে বাকবুক এলাকায় একটি বাগানে হামলায় আরও পাঁচজন নিহত এবং দুইজন আহত হন। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর ব্যাপক ধ্বংসস্তূপের নিচে এক নারীর মরদেহ আটকা পড়ে ছিল।
টাইর জেলার আইন বাল ও হাউশ সংযোগ সড়কে পৃথক ড্রোন হামলায় একজন নিহত হন। রাতভর হামলায় দায়ের কানোন আল-নাহার এলাকায় একটি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। এই বাড়িতে আরও চারজন নিহত হন।
এদিকে হামলার মধ্যে হিরাম হাসপাতালের আশপাশেও বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে অন্তত ২৫ জন চিকিৎসক, নার্স ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাসপাতালটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং দুই মাসের মধ্যে এটি দ্বিতীয়বারের মতো এমন হামলার মুখে পড়ল।
মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষার আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ইসরায়েল লঙ্ঘন করছে। একই সঙ্গে লেবাননের কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১৭ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ধারাবাহিকভাবে লঙ্ঘন করে যাচ্ছে ইসরায়েল।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ১২৩ জন নিহত, ৯ হাজার ৫০৬ জন আহত হয়েছেন। এছাড়াও ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসনে ১৬ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।









