১৭ বারের মতো সমাবর্তন করলো মালয়েশিয়ার জিওমেটিকা বিশ্ববিদ্যালয়। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ৬’শ জনেরও বেশি স্নাতক ও ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি এবং বেশ কয়েকজন কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্ব পুরস্কার, সেরা থিসিস স্বীকৃতি এবং নেতৃত্বের প্রশংসায় ভূষিত করা হয়। যার মধ্যে ১২০ জন ছিলেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার কুয়ালালামপুরে এই আয়োজনটি ছিল শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবনের নতুন সূচনার এক আনন্দমুখর দিন।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর তোহ পুয়ান দাতো উইরা ডা. হাজাহ আসমাহ বিনতি হাজি আব্দুল রহমান। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবর্তন উদ্বোধন করেন এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে ডিগ্রি, ডিপ্লোমা ও বিশেষ পুরস্কার বিতরণ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটি জিওমেটিকা মালয়েশিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট প্রফেসর দাতুক মোহাইজি মোহামেদ এবং আন্তর্জাতিকীকরণ ও ব্র্যান্ডিং বিষয়ক উপ-উপাচার্য বাংলাদেশি নাগরিক অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. মামিনুল ইসলাম মোমিন।
ড. মামিনুল ইসলাম মোমিন ২০১৩ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করে আসছেন। তার নেতৃত্বে এই বিভাগ ২০১৬ সালে মালয়েশিয়ার বিদেশি শিক্ষার্থীদের সেবায় সেরা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালইরটিতে ৪০টিরও বেশি দেশের এক হাজারেরও বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। ড. মামিনুল ইসলাম মোমিন ব্রাইটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল কুয়ালালামপুরের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
সমাবর্তন ভাষণে চ্যান্সেলর তোহ পুয়ান দাতো উইরা ডা. হাজাহ আসমাহ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘এই সমাবর্তন কেবল একটি শিক্ষা অর্জনের উৎসব নয়, বরং এটি অধ্যবসায়, নেতৃত্বগুণ এবং উদ্ভাবনের প্রতিচ্ছবি—যা এই বিশ্ব বিদ্যালয়ের মূল চেতনা।
তিনি গ্র্যাজুয়েটদের জীবনের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করার সময় সততার সাথে নেতৃত্ব দিতে এবং সমাজ ও পেশাগত জীবনে গঠনমূলক অবদান রাখতে উৎসাহিত করেন।
এই বছরের সমাবর্তনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ভবিষ্যতের ক্ষমতায়ন, উদ্ভাবনকে অনুপ্রাণিত করা’, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন স্নাতক তৈরির প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত করে যারা কেবল শিল্প-প্রস্তুতই নয় বরং সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল বিশ্ব নাগরিকও। অনুষ্ঠানে ব্যবসা, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, শিক্ষা, সামাজিক বিজ্ঞান এবং সৃজনশীল শিল্পের মতো ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব বৃদ্ধির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিষ্ঠার প্রতি আলোকপাত করা হয়েছিল।
সমাবর্তন হলে প্রিয়জনদের হাতে সনদ গ্রহণের মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবরা গর্ব, আনন্দ ও উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন। সমাবর্তনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মেও সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছিল, যার ফলে প্রাক্তন শিক্ষার্থী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং দেশটির বাহিরে থাকা পরিবারগুলি ভার্চুয়ালি উদযাপনে যোগ দিয়েছেন।
এই সমাবর্তনটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মালয়েশিয়ার শিক্ষাঙ্গনে সাফল্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।










