যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এফ-১ (F-1) স্টুডেন্ট ভিসার মেয়াদ আর কোর্স শেষ হওয়া পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহাল থাকবে না।
এর পরিবর্তে সর্বোচ্চ চার বছরের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের বেশি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাইলে নতুন করে অনুমতি নিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) চূড়ান্ত বিধিমালা অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ নীতি বাতিল করা হয়েছে। আগে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা বৈধ শিক্ষার্থী মর্যাদা বজায় রাখলে তাদের ডিগ্রি শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারতেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সেই সুবিধা আর থাকবে না।
নতুন বিধি অনুযায়ী, চার বছরের বেশি সময়ের ডিগ্রি বা গবেষণা কর্মসূচিতে থাকা শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান অব্যাহত রাখতে মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে হবে। অনুমোদন না পেলে তাদের দেশ ছাড়তে হবে অথবা নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি নিতে হবে।
শুধু অবস্থানের সময়সীমাই নয়, শিক্ষার্থীদের জন্য আরও কয়েকটি নিয়ম কঠোর করা হয়েছে। স্নাতকোত্তর পর্যায়ের অনেক শিক্ষার্থী আগের মতো সহজে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তন বা একই স্তরের নতুন কোর্সে ভর্তি হতে পারবেন না। পাশাপাশি পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার জন্য যে ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড ছিল, তা কমিয়ে ৩০ দিন করা হয়েছে।
ডিএইচএস জানিয়েছে, বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি জোরদার করা, ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধ এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ভিসায় প্রবেশ করেছেন, যা তদারকির ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা–সংশ্লিষ্ট সংগঠন নতুন নিয়ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের আকর্ষণ কমে যেতে পারে, বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ও পিএইচডি কর্মসূচিতে।
ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এই বিধিমালা নির্ধারিত সময় পর কার্যকর হবে। এরপর থেকে নতুন নিয়ম অনুযায়ী বিদেশি শিক্ষার্থী, এক্সচেঞ্জ ভিজিটর এবং নির্দিষ্ট কিছু অন্যান্য অ-অভিবাসী ভিসাধারীর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের মেয়াদ নির্ধারণ করা হবে।










