মালয়েশিয়ায় ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় বিদেশি নাগরিকদের সাথে প্রতারণার অভিযোগে এক বাংলাদেশি নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার (৩১ আগস্ট) দেশটির অভিভাসন বিভাগ এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ওই নারী এক চক্রের হয়ে কাজ করছিলেন। ‘কী মালয়েশিয়া’ নামের একটি ভুয়া ওয়েবসাইট ব্যবহার করে ই-ভিসার জন্য আবেদনে সহায়তার জন্য আসল ফির চেয়ে তিনগুণ বেশি অর্থ আদায় করছিল চক্রটি।
অভিভাসন বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়, ৩২ বছর বয়সি ওই বাংলাদেশি নারী একটি সোশ্যাল ভিজিট পাসসহ আটক হন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গত তিন বছর ধরে তিনি মালয়েশিয়ায় নিয়মিত আসা-যাওয়া করছিলেন।
মালয়েশিয়ার অভিভাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান বলেন, এই চক্রের প্রধান লক্ষ্য ছিল সেইসব বিদেশি নাগরিক, যাদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশের জন্য ভিসা প্রয়োজন। তারা ই-ভিসার জন্য আসল ফির চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ বেশি অর্থ আদায় করত।
প্রাথমিক তথ্যানুসারে, এই প্রতারক চক্রের পরিচালিত ওয়েবসাইটটির মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৫২ হাজার ৬৭২টি ই-ভিসা আবেদন জমা পড়েছে, যার প্রতিটির জন্য ৩০০ থেকে ৫০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত নেয়া হয়েছে।
ধারনা করা হচ্ছে, এই চক্রটি ২০২২ সাল থেকে সক্রিয় ছিল। তারা ইমিগ্রেশন বিভাগের আসল ওয়েবসাইট ‘ই ভিসা মালয়েশিয়া’ এর আদলে একটি ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে। সেই ভুয়া সাইটে দুটি ক্যাটাগরিতে ভিসা অনুমোদনের ব্যবস্থা ছিল একটি ‘রেগুলার ভিসা’ (৩-৫ কার্যদিবস) এবং অপরটি ‘আর্জেন্ট ভিসা (২-৩ কার্যদিবস)।
আবেদনকারীরা যখন এই ভুয়া ওয়েবসাইটে আবেদন ও অর্থ পরিশোধ করতেন, তখন চক্রটি সেই তথ্যগুলো ইমিগ্রেশন বিভাগের আসল পোর্টালে স্থানান্তর করত। কিন্তু পরবর্তীতে আবেদনকারীদের কাছে একটি বার্তা পাঠানো হত যে, তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
যদি কোনো আবেদনকারী লাইভ চ্যাটে কারণ জানতে চাইতেন, তখন তাদের পাসপোর্ট কালো তালিকাভুক্ত করার হুমকি দেয়া হতো।
আটক বাংলাদেশি নারীর বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন রেগুলেশনস ১৯৬৩-এর ধারা ৩৯(বি) অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং তাকে পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামীকেও ইমিগ্রেশন অফিসে উপস্থিত হওয়ার নোটিশ দেয়া হয়েছে। জাকারিয়া শাবান আরও বলেন, ‘এই ধরনের প্রতারণামূলক ওয়েবসাইট ইমিগ্রেশন বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে এবং জনগণের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে।
মাদানি সরকারের প্রত্যাশা অনুযায়ী ইমিগ্রেশন বিভাগ এই ধরনের জালিয়াতি দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেবে এবং দেশের নিরাপত্তা ও অখণ্ডতা বজায় রাখতে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।









