হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়া একটি এলপিজি (LPG) ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে জাহাজে থাকা দুই নাবিক নিহত হয়েছে। ট্যাংকারটি ইরানি গ্যাস বহন করছিল বলে সন্দেহ করে ভুলবশত হামলা চালিয়েছিল মার্কিন বাহিনী। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB) এ তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে, বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য মতে, শুক্রবার(২৪ জুলাই) ইরানের আঞ্চলিক জলসীমায় মোজাম্বিকের পতাকাবাহী এলপিজি (LPG) ট্যাংকারে ‘দিশা’ (Disha) হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জাহাজটিতে ২৮ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানে থাকা ভারতীয় দূতাবাস জানায়, জাহাজে থাকা সব ভারতীয় নাবিক নিরাপদ রয়েছেন এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

তবে,আইআরআইবি এক অবহিত সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে ওমান সাগর থেকে হরমুজ প্রণালির দিকে আসার সময় মার্কিন বাহিনী ট্যাংকারটিতে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। মার্কিন বাহিনী ধারণা করেছিল জাহাজটি ইরানের গ্যাস বহন করছে, তাই এটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
প্রতিবেদনের তথ্য মতে, হামলায় দুইজন নাবিক নিহত হন এবং জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ট্যাংকারটি অচল হয়ে পড়ে। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ দাবির বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
আইআরআইবির প্রতিবেদনে উল্লিখিত ট্যাংকারটি ভারতীয় দূতাবাসের উল্লেখ করা একই জাহাজ কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গত ৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে (MoU) উল্লেখিত যুদ্ধবিরতি আর কার্যকর নেই। এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা তথা নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে মতানৈক্যের জেরে চলতি মাসে ফের সংঘাতে জড়িয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফা বিমান হামলায় ৫৯ জন নিহত এবং ৫৯২ জন আহত হয়েছেন। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ ও তথ্যকেন্দ্রের প্রধান হোসেইন কারমানপুর এ তথ্য জানিয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে মেহের নিউজ এজেন্সি।









