চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনে এক যাত্রীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ।
রোববার (১২ অক্টোবর) লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন গৌরীপুর রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ (সাব-ইন্সপেক্টর) আবুল কালাম।
তিনি বলেন, জামালপুরগামী আন্তঃনগর বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনটি গৌরীপুর জংশনে থামার পর ট্রেনের পাওয়ারকার (বৈদ্যুতিক রুম) কোচে একজন পরে রয়েছে খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়। তার নাম হাজী আব্দুর রহমান, বয়স আনুমানিক ৬২। তিনি নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার মেনদী গ্রামের ওয়াহেদ আলীর ছেলে।
আবুল কালাম বলেন, উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু উদ্ধারের পর দেখা যায় তিনি ট্রেনের ভেতরেই মারা গেছেন। তার লাশ নিয়ে ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানায় যাচ্ছি। সেখানে যাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহতের ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছে, তিনি গাজীপুর থেকে ময়মনসিংহ আসছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, বিপদজ্জনক চিহ্ন-সংবলিত কোচের ভেতরে আব্দুর রহমানের লাশ পাওয়া যায়। তার শরীরের ডান হাত ও শরীরের পরা কাপড় রক্তমাখা। ট্রেনের বগিতেও রক্ত জমাট হয়ে পড়ে রয়েছে। ট্রেনের জানালায় ও ট্রেনের কোচেও রয়েছে রক্তের দাগ।
উদ্ধারকারী গৌরীপুর রেলওয়ে ফাঁড়ির কনস্টেবল মো. রফিকুল ইসলাম জানান, উদ্ধারকৃত যাত্রীর ডান হাতে রক্তের দাগ ছিল।
ওই ট্রেনের যাত্রী আজিজুল হক জানান, ট্রেনটিতে খুব ভিড় ছিল না। যাত্রীদের বগিতেও অনেক আসন খালি। তারপরেও বিপজ্জনক ওই কোচের ভেতরে এ যাত্রী কিভাবে গেল, সেখানে তো যাত্রীদের যাওয়া নিষিদ্ধ।
গৌরীপুর রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ (সাব-ইন্সপেক্টর) আবুল কালাম জানান, ধারণা করা হচ্ছে ওই কক্ষটি গরম। ট্রেনের ঝাঁকিতে ধাক্কা খেয়ে জানালার পাশে পরে গেলে মাথায় ও হাতে প্রচণ্ড আঘাতপ্রাপ্ত হন তিনি। ওই কোচের ভেতরেও প্রচণ্ড শব্দ থাকায় কেউ টের পায়নি।
তবে বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের পাওয়ারকার কোচে দায়িত্বরত কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়ার জন্য গেলে তিনি দ্রুত সটকে পড়েন।
গৌরীপুর জংশনের কেবিন মাস্টার আব্দুল কাদির জানান, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনটি গৌরীপুর জংশনে সাড়ে ৪টায় প্রবেশ করে। জামালপুরের উদ্দেশ্যে ৪টা ৫৫ মিনিটে গৌরীপুর জংশন থেকে ছেড়ে যায়।
জংশনের স্টেশন মাস্টার মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ট্রেনের ভেতরে লাশ পরে আছে, খবর পেয়ে আমি ও পুলিশসহ সেখানে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছি। ট্রেনের ধাক্কায় মারা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।










