দুর্নীতির অভিযোগে অবরুদ্ধ প্রধান শিক্ষক, ৫ ঘণ্টা পর উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে দুর্নীতির অভিযোগে আনন্দময়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আবু জামালকে পাঁচ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। পরে জেলা প্রশাসনের দুজন ম্যাজিস্ট্রেট এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান।

বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

আনন্দময়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী নাঈমা ও ইশরাত জাহান তৃষ্ণাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, প্রধান শিক্ষক আবু জামাল বিভিন্ন জাতীয় দিবসে ভুয়া বিল তৈরি করে বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে লক্ষাধিক টাকা উত্তোলন করেছেন। অথচ এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শতাধিক ছাত্রীদের কাছ থেকেও ৬০০ টাকা হারে নেন তিনি। এ ঘটনা জানাজানি ও বিষয়টি প্রমাণিত হলে প্রধান শিক্ষকের পরিবর্তে এক নৃত্য শিক্ষকের চাকরি চলে যায়। বিদ্যালয়ের তহবিল তছরুপ করতে অফিস সহকারী হরিশঙ্কর চক্রবর্ত্তী অবসর নেওয়ার পরও তাকে বেআইনিভাবে বহাল রেখেছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।

তারা আরও জানান, ঝাড়ুদার মিনা রানী দাসের চাকরি স্থায়ী করতে তার কাছ থেকে দেড়লাখ টাকা ঘুস নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক আবু জামাল। সেই টাকা এখনো ফেরত দেননি। ২০২৩ সালে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অতিরিক্ত টাকা আদায় করলে তা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হয়। পরে ইউএনওর অফিসে অভিযোগ দিলে প্রধান শিক্ষক ক্ষমা চেয়ে টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন। তার বিরুদ্ধে অসংখ্য দুর্নীতির প্রমাণ রয়েছে।

এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আজ সকাল ৯টার দিকে প্রধান শিক্ষক আবু জামালকে তার কক্ষে অবস্থান করার সময় শিক্ষার্থীরা অবরোধ করেন। এসময় তারা তার বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে স্লোগান দেন। খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা আসেন। কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক বন্ধ করে প্রধান শিক্ষককে বের হতে দেননি শিক্ষার্থীরা।

এ অবস্থায় জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ইকরামুল হক নাহিদ ও নুশরাত জাবীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা প্রধান শিক্ষক আবু জামালের বিষয়ে তদন্ত করে বিচারের আশ্বাস দেন। পরে দুপুর ২টার দিকে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় ত্যাগ করেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক আবু জামাল বলেন, তদন্তে সব প্রমাণ হবে।

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির দাতা সদস্য লতিফুর রহমান বলেন, বিভিন্ন দিবসে অংশ নিতে বিদ্যালয় থেকে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। বিজয় দিবসেও ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ৬০০ টাকা করে নেওয়া হয়। যা প্রমাণ হওয়ার পর সেই টাকা স্কুল ফান্ডে রেখে দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ইকরামুল হক নাহিদ বলেন, ‘প্রধান শিক্ষককে শিক্ষার্থীরা অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে জেলা প্রশাসন থেকে আমাদের পাঠানো হয়। সেখান থেকে উনাকে (প্রধান শিক্ষক) আমরা নিয়ে আসি।’

  • Related Posts

    সরকারি সফরে চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া গেলেন সেনাপ্রধান

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান পাঁচ দিনের সরকারি সফরে চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া গেছেন। রোববার (২৮ জুন) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়। আইএসপিআর…

    Continue reading
    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেলফি তুলে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা

    কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার চার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৬৫ শিক্ষার্থী ও চার শিক্ষক প্রথমবারের মতো দেশের গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র জাতীয় সংসদ ভবন পরিদর্শনের সুযোগ পেয়েছেন। রোববার (২৮ জুন) সংসদ সচিবালয়ের ভিজিট শাখার উদ্যোগে আয়োজিত…

    Continue reading

    সরকারি সফরে চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া গেলেন সেনাপ্রধান

    সরকারি সফরে চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া গেলেন সেনাপ্রধান

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেলফি তুলে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেলফি তুলে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা

    নিজের ছবিযুক্ত নতুন পাসপোর্ট উন্মোচন করলেন ট্রাম্প

    নিজের ছবিযুক্ত নতুন পাসপোর্ট উন্মোচন করলেন ট্রাম্প

    ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৪৩০, নিখোঁজ ৫১ হাজারের বেশি

    ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৪৩০, নিখোঁজ ৫১ হাজারের বেশি

    শ্রীমঙ্গলে বাস-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২

    শ্রীমঙ্গলে বাস-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২

    বিশ্বকাপে মেসির আর‌ও একটি অনন্য বিশ্বরেকর্ড

    বিশ্বকাপে মেসির আর‌ও একটি অনন্য বিশ্বরেকর্ড

    একের পর এক আক্রমণ করেও ড্র কলম্বিয়া-পর্তুগাল ম্যাচ

    একের পর এক আক্রমণ করেও ড্র কলম্বিয়া-পর্তুগাল ম্যাচ

    রণবীরের পাশে দাঁড়িয়ে যা বললেন সুনীল শেঠি

    রণবীরের পাশে দাঁড়িয়ে যা বললেন সুনীল শেঠি

    চীনের হাইনান প্রদেশ সফরে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদল

    চীনের হাইনান প্রদেশ সফরে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদল

    দেশে ফিরেছেন ৬৮ হাজার ২৯৭ হাজি 

    দেশে ফিরেছেন ৬৮ হাজার ২৯৭ হাজি