পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, জাতিসংঘের সংস্কারের বিষয়টিকে খুব, খুব গুরুত্বের সাথে নিচ্ছি। আমাদের এখন এমন একটি পরিস্থিতি চলছে যেখানে আস্থার ঘাটতি রয়েছে।
তাই শুধু আজকের জন্য নয়, বরং আগামীকালের বা ভবিষ্যতের জন্য এই সংস্থাকে উপযুক্ত করে তুলতে হলে অবশ্যই গভীর সংস্কার করতে হবে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে শপথ নেন।
এরপর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে খলিলুর রহমান বলেন, জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠাতারা যখন সনদ গ্রহণ করেছিলেন, তখন তারা বলেছিলেন ‘আমরা জাতিসংঘের জনগণ’।
তারা বলেননি যে জাতিসংঘের এই দেশের বা ওই দেশের জনগণ। এর সাথে সব মানুষ জড়িত।
গত বছর হয়তো আপনারা দেখেছেন যে আমরা রোহিঙ্গাদের নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করেছিলাম। কয়েক বছর আগে আমার সরকার আমাকে রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত করেছিল।
তিনি বলেন, আমি খুব কাছ থেকে তাদের দুর্দশা দেখেছি, বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য তাদের আকুলতা দেখেছি। আমরা মহাসচিবকে ক্যাম্পগুলোতে নিয়ে গিয়েছিলাম। রমজানের এক সন্ধ্যায় ইফতারের সময় এক লাখ মানুষ জড়ো হয়েছিল এবং সবাই বলেছিল যে আমরা ফিরে যেতে চাই। ঠিক আছে, সুতরাং এটি এমন একটি গোষ্ঠীর, নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে বিতাড়িত এক বিশাল জনগোষ্ঠীর আকুতি। আমরা তাদেরকে জাতিসংঘের সামনে নিয়ে এসেছি। আমরা তাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরেছি। সামনের দিনগুলোতেও আমি এই কাজ চালিয়ে যাব।
এসময় একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, বিশ্ব এবং বাংলাদেশ আপনার সভাপতিত্ব থেকে কী আশা করতে পারে, যা স্পষ্টতই আগের সভাপতিরা করেননি? এমন প্রশ্নের উত্তরে খলিলুর রহমান বলেন, প্রথমেই আমি যেটা নিশ্চিত করতে চাই, আর আমার প্রচারণার সময়ও আমি এ কথাই বলেছিলাম যে, নির্বাচিত হলে আমি প্রতিটি দেশের সভাপতি হব। তারা আমাকে ভোট দিক বা না দিক, তা কোনও বিষয় নয়। আর নির্বাচনের পরও আমি ঠিক একই কথা বলেছি। আমি সব দেশের জন্য একজন সভাপতি হব।
অপর এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের ক্ষেত্রে কোনও অগ্রগতি হয় কি না, সেদিকে সবার নজর রয়েছে। আমরা সবাই জানি যে এ বিষয়ে তেমন কিছুই হয়নি। আপনার সভাপতিত্বে আমরা কী আশা করতে পারি? কোনো বাড়তি উদ্যোগ কি নেওয়া হবে? আর আপনার জাতীয় অবস্থান থেকে জানতে চাই, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কি এই সপ্তাহের শেষে নয়াদিল্লীতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেবেন?
এমন প্রশ্নের উত্তরে খলিলুর রহমান বলেন, আমি এখানে জাতীয় কোনো পদমর্যাদায় আসিনি। তাই দয়া করে দ্বিতীয় প্রশ্নটির জন্য আমাকে ক্ষমা করবেন। আমি আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করব আমাকে কেবল সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে প্রশ্ন করার জন্য বা আমার কাছে আসার জন্য। যদি কোনো দ্বিপাক্ষিক বিষয় থাকে, যেহেতু আমি এখনো পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আমি আপনাদের সাথে আলাদাভাবে কথা বলব। ঠিক আছে।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, সংস্কারের বিষয়ে বলতে গেলে, আমি মহাসচিবের জাতিসংঘ সংস্কার প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে যাব। আমি মনে করি… মানে আমি এখানকার অনেক পুরোনো একজন মানুষ। আমি এই সংস্থাকে একজন প্রতিনিধি হিসেবে দেখেছি, আবার একজন কর্মী হিসেবেও দেখেছি। তাই সংস্কারগুলো অবশ্যই অর্থবহ হতে হবে। এই সংস্কারগুলোকে অবশ্যই সাধারণ মানুষের চোখে এই সংস্থার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে হবে। তা না হলে, সংস্কারগুলোকে কেবল নামমাত্র বা দায়সারা বলে মনে করা হবে। আমি এই সংস্কারের বিষয়টিকে খুব, খুব গুরুত্বের সাথে নিচ্ছি। আমাদের এখন এমন একটি পরিস্থিতি চলছে যেখানে আস্থার ঘাটতি রয়েছে। তাই শুধু আজকের জন্য নয়, বরং আগামীকালের বা ভবিষ্যতের জন্য এই সংস্থাকে উপযুক্ত করে তুলতে হলে অবশ্যই গভীর সংস্কার করতে হবে। এটি ১৯৪৫ সাল নয়। আমরা এখন আর সান ফ্রান্সিসকো সম্মেলন করছি না। এটি একবিংশ শতাব্দী। সুতরাং বিশ্ব এগিয়ে গেছে, সংস্থাকেও এগিয়ে যেতে হবে। আর আমি সেই প্রক্রিয়ায় সহায়তা করব।
তিনি আরও বলেন, আমি আপনাদের একটা কথা বলে রাখছি, আমার দরজা সবসময় খোলা থাকবে এবং দয়া করে আপনারাও আপনাদের দরজা খোলা রাখবেন। তা না হলে অন্তত জানালা খোলা রাখবেন। আমরা সবসময় একে অপরের সাথে যোগাযোগ রাখব।









