
হাবিবুর রহমান মুন্না।।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি উপভোগ করতে কুমিল্লার বিভিন্ন বিনোদন স্পটগুলোতে ভিড় জমিয়েছে দর্শনার্থীরা।
ঈদের পরদিন মঙ্গলবার থেকে শুরু আজ অব্দি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর ছিল প্রতিটি বিনোদন স্পট।
পরিবার-পরিজন ও প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটাতে নারী-পুরুষ,শিশুসহ সববয়সের দর্শনার্থীদের কুমিল্লার কোটবাড়ি ও আশপাশের বিনোদন স্পষ্টগুলো ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে।
এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থী ভিড় জমাচ্ছে কুমিল্লার পর্যটক এলাকা হিসেবে খ্যাত
কুমিল্লা সদর দক্ষিণের কোটবাড়ি শালবন বিহার, রাজবাড়ি, রূপবানমুড়া, ইটাখোলা মুড়া, ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্ক, ব্লু-ওয়াটার পার্ক, লালমাই লেকল্যান্ড, রাজেশপুর ইকোপার্কসহ বিভিন্ন বিনোদন স্পটে।
এই স্থানগুলো দীর্ঘদিন ধরে দেশ ও বিদেশের পর্যটকদের দৃষ্টি কেড়ে নিয়েছে। এবার ঈদের লম্বা ছুটিতে সেখানে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আসা দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে।
এছাড়া বাংলাদেশে বসবাসরত অনেক বিদেশি নাগরীকও ঈদের ছুটিতে শালবন বিহারে আসতে দেখা যায়।
ময়নামতি জাদুঘরের পাশে বন বিভাগের পিকনিক স্পট এবং শালবন বিহারের পাশে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (বার্ড) দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
এছাড়াও কুমিল্লায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে লালমাই পাহাড়। লালমাই পাহাড়ের সুউচ্চ চূড়ায় উঠে অনায়াসেই কুমিল্লা শহরকে দেখা যায়। এই পাহাড় এলাকা এবং এর আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অনেক প্রাচীন নিদর্শন।
চট্টগ্রাম থেকে ভ্রমণে আসা সোহেল আমিন বলেন,কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী শালবন বিহার ও জাদুঘরের কথা অনেক শুনেছি। তাই কোন দিকে না তাকিয়ে পুরো পরিবার নিয়ে চলে এসেছি ঐতিহ্যবাহী কুমিল্লার শালবন বিহার দেখতে।
ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের এডমিন মোদাব্বির হোসেন নাসির জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে দর্শনার্থীদের ভালো উপস্থিতি রয়েছে। আমরা স্পটে তাদের নিরাপদ দিতে পেরে খুশি।
ময়নামতি যাদুঘরের কাস্টডিয়ান মো. শাহিন আলম বলেন, এবছর ঈদে লম্বা ছুটির কারণে কুমিল্লার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন শালবন বিহারে শিশু, কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতীসহ নানা বয়সী বিনোদন পিপাসু মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠেছে।
শালবন বিহারে ঈদের দিন ১২ হাজারেরও অধিক দর্শনার্থীর সমাগম ঘটেছে। ঈদের পরদিন তারচেয়েও বেশি দর্শনার্থীর উপস্থিতি রয়েছে বলে জানা গেছে । দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় আমরা সজাগ দৃষ্টি রাখছি।
এ ব্যাপারে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, ঈদকে ঘিরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন প্রতিটি বিনোদন কেন্দ্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। আমরা তা পরিদর্শন করছি এবং দর্শনার্থীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে আমাদের পুলিশ বাহিনী।