মিশরের রাজধানী কায়রোতে তিন দিনব্যাপী ক্রিকেট ও ফুটবলসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করেছেন দেশটিতে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও প্রবাসীরা। প্রাণবন্ত এ উৎসবটি প্রবাসে বাঙালি সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল মিলনমেলায় পরিণত হয়।
বিখ্যাত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত হয় এই বর্ষবরণ ও বৈশাখী মেলা। শনিবার (২৫ এপ্রিল) আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবাসিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিশরে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ।

আবদুল্লাহ আল মারুফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাইখুল আজহার ড. আহমাদ আত-তাইয়্যেব-এর আন্তর্জাতিক ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা ও মারকাজুত তাতবিরের প্রধান ড. নাহলা সাইদি। এছাড়া আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদিনাতুল বু’উস আল-ইসলামিয়ার প্রধান ইসাম আল-কাদি।
বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া এই আয়োজনে মিশরের বিভিন্ন শহর থেকে আগত প্রবাসী পরিবার ও শিক্ষার্থীরা রঙিন শাড়ি, পাঞ্জাবি ও সালওয়ার-কামিজে সজ্জিত হয়ে অংশ নেন। শিশুদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি, দেশীয় পিঠা-পায়েসের বাহারি আয়োজন, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা—সব মিলিয়ে পুরো স্টেডিয়াম যেন ক্ষুদ্র এক বাংলাদেশে রূপ নেয়।
নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয় ‘দ্য লিজেন্ডস অব বেঙ্গল’ এবং রানার্স-আপ ‘নীল ওয়ারিয়র্স’। অন্যদিকে ফুটবল প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় ‘লায়ন্স অব আজহার’ এবং রানার্স-আপ ‘টাইগার্স অব আজহার’।

এছাড়াও শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দৌড় প্রতিযোগিতা ও হাঁড়িভাঙা খেলা অনুষ্ঠিত হয়। নারীদের অংশগ্রহণে বালিশ খেলা উৎসবে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ।
উৎসবে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পিঠা-পুলি ছাড়াও রসমালাই, লাড্ডু, জিলাপি ও বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের স্টল বসান প্রবাসী উদ্যোক্তারা। প্রধান অতিথি প্রতিটি স্টল পরিদর্শন করে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ বলেন, বিদেশের মাটিতে বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধারণ এবং চর্চার এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে দেশ ও সংস্কৃতির প্রতি আরও অনুপ্রাণিত করে। এ সময় তিনি বিদেশি শিক্ষার্থী ও অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং বাংলাদেশের সমৃদ্ধ খাদ্যসংস্কৃতির বৈচিত্র্য তুলে ধরেন।
বিশেষ অতিথি ইসাম আল-কাদি বলেন, প্রবাসে নিজস্ব সংস্কৃতি লালন ও উদযাপন করা দেশপ্রেমের এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ।

অনুষ্ঠানের সভাপতি সাইফুর রহমান রাষ্ট্রদূতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তিনি সবসময় ছাত্রবান্ধব মনোভাব নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকেন, যা প্রবাস জীবনে বড় প্রেরণা জোগায়। আহ্বায়ক মিনহাজ সামি দল-মত নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানান।
যুগ্ম আহ্বায়ক মিরাজুর রহমান বলেন, প্রবাসে এমন আয়োজন আমাদের সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। সদস্য সচিব সালেহ আল ইসলাম খেলাধুলায় অংশগ্রহণকারী সবাইকে অভিনন্দন জানান।
বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়সহ মিশরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিপুলসংখ্যক প্রবাসী অংশগ্রহণ করেন।
এ ধরনের উৎসবমুখর আয়োজন প্রবাসজীবনের নিঃসঙ্গতা অনেকটাই লাঘব করে এবং প্রিয়জন থেকে দূরে থাকার বেদনা ভুলিয়ে দেয়। পহেলা বৈশাখের এই আনন্দঘন আয়োজন প্রবাসে যেন এক টুকরো বাংলাদেশকে জীবন্ত করে তোলে।









