ঢাকা টেস্টের শুরুটা বেশ ভালোই হয়েছে বাংলাদেশের। প্রথম দিনেই সেঞ্চুরি তুলে নেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এছাড়া মুমিনুলের ৯১ ও মুশফিকের ৭১ রানে ভর করে ৪১৩ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় টাইগাররা। তবে জবাবটা অবশ্য বেশ ভালোভাবেই দিচ্ছে পাকিস্তান। হাফ-সেঞ্চুরি করতে না পারার আক্ষেপ নিয়ে ইমাম-উল হক সাজঘরে ফিরলেও দলের হাল ধরেছেন আজান আওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফজল। আজান ৮৫ ও আব্দুল্লাহ ৩৭ রান নিয়ে উইকেটে টিকে আছেন। দ্বিতীয় দিন শেষে সফরকারীদের সংগ্রহ এক উইকেট হারিয়ে ১৭৯।
শনিবার (৯ মে) নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরু পায় পাকিস্তান। দুই ওপেনার আজান আওয়াইস ও ইমাম-উল হকের উদ্বোধনী জুটি থেকে আসে ১০৬ রান। মেহেদী হাসানের মিরাজের বলে এলবিডব্লিউ-এর ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফেরেন ইমাম-উল হক। ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৭২ বলে ৪৫ রান।
এরপর আব্দুল্লাহ ফজলকে সাথে নিয়ে দিনের বাকি সময়টা পার করেন আজান আওয়াইস। প্রথমবার টেস্ট খেলতে নেমেই দারুণ এক হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে আছেন সেঞ্চুরির পথে। শেষ বিকেলে দুজনে মিলে যোগ করেন ১৪৪ বলে ৭৩ রান। শেষ পর্যন্ত এক উইকেট হারিয়ে ১৭৯ রানে দ্বিতীয় দিন শেষ করে সফরকারীরা।
এদিকে মুশফিকুর রহিমের জন্য আজকের দিনটা ছিল বিশেষ। ১৯৮৭ সালের এই দিনে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। জন্ম বার্ষিকীর দিনটাকে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে রাঙানোর সুযোগ এসেছিল তার সামনে। দ্বিতীয় দিনের লাঞ্চ বিরতিতে যখন যান, তখন সেঞ্চুরি থেকে তিনি ২৯ রান দূরে।
মুশফিক ওই দূরত্ব একটুও কমাতে পারেননি। লাঞ্চ থেকে ফেরার পর প্রথম ওভারেই বিদায় নেন। শাহিন শাহ আফ্রিদির ফুল লেন্থের ডেলিভারি তার অফ স্টাম্প উড়িয়ে নেয়। মুমিনুলের মতো সেঞ্চুরি বঞ্চিত হওয়া মুশফিক ১৭৯ বলে ৭১ রানের ইনিংসটিকে সাজান ৮ চারের মারে।
টেলএন্ডারদের জুটিতে টাইগাররা এরপর আরও ৩৩ রান তুলে ৪১৩ রানে অলআউট হয়েছে। এবাদত হোসেন মোহাম্মদ আব্বাসের পঞ্চম শিকারে পরিণত হওয়ার পর তাসকিন আহমেদ খেলেন ১৮ বলে ২৮ রানের ঝড়ো এক ইনিংস। শেষ ব্যাটার হিসেবে তিনি আউট হন।
মিরপুরে মুশফিক দ্বিতীয় দিন শুরু করেছিলেন লিটন দাসকে সঙ্গী করে। আগের দিন মুশফিক ৪৮ ও লিটন ৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। দিনের চতুর্থ ওভারে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করে মুশফিক ব্যাট উঁচিয়ে ধরে উদযাপন করেন। মোহাম্মদ আব্বাসের ওভারে লিটন দাস বিদায় নেন ব্যক্তিগত ৩৩ রানে। এরপর নামা মেহেদী মিরাজ বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ১২ বলে এক চার ও এক ছয়ে ১০ রান করেই মাঠছাড়া হন। তাইজুল ২৩ বলে খেলেন ১৭ রানের দ্রুত এক ইনিংস।
বাংলাদেশের ইনিংসটি দাঁড়িয়েছে মূলত আগের দিনের নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হকের ১৭০ রানের জুটিতে। ৩১ রানেই বাংলাদেশ ২ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল। মাহমুদুল হাসান জয় ৮ ও সাদমান ইসলাম ১৩ রান করে আউট হন। এরপর তৃতীয় উইকেটে মুমিনুল ও শান্তর প্রতিরোধী জুটি। প্রতিরোধ করে পাকিস্তানের ওপর চাপ ঠেলে দেন তারা। দুজনে মিলে দ্বিতীয় সেশনের পুরোটাই আধিপত্য করেন।
বিরতির ঠিক আগে আগে শান্ত ৭৪ ইনিংসের টেস্ট ক্যারিয়ারে নবম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। যদিও এরপর আর টেকা হয়নি তার। আব্বাসের গুড লেংথের ডেলিভারিতে ডিফেন্ড করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হয়ে মাঠ ছাড়েন। শান্ত একটু আক্রমণাত্মক হলেও মুমিনুল খেলছিলেন রয়েসয়ে। আগে নামলেও টেস্ট মেজাজি ব্যাটিংয়ে শান্তর পরে ১০২ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। সেঞ্চুরিটাও পেয়ে যেতে পারতেন, কিন্তু ২০০তম বলের মোকাবিলায় নোমান আলীর এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন। মুমিনুল ৯১ রানের ইনিংসে ১২টি চার হাঁকান।










