পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস দিয়ে সিরিজ শুরু করেছিলেন, মাঝের তিন ইনিংসে সর্বোচ্চ রান ছিল মোটে ২৪। তবে শেষটা নিজের চেনা রূপেই রাঙালেন জো রুট।
পাকিস্তানের বিপক্ষে এজবাস্টন টেস্টে রান তাড়ায় অপরাজিত ৬২ রানের এক দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক। আর এই ফিফটির সৌজন্যেই ক্রিকেটের রাজকীয় ফরম্যাটে এক অনন্য রেকর্ডের চূড়ায় এককভাবে উঠে গেলেন তিনি।
টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ফিফটির রেকর্ডে ভারতীয় ব্যাটিং কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন রুট। ক্রিকেটের দীর্ঘতম সংস্করণে এটি তার ৬৯তম অর্ধশতক।
টেস্টে সর্বোচ্চ ৫১টি সেঞ্চুরির মালিক টেন্ডুলকার ২০০ ম্যাচে ৬৮টি ফিফটি নিয়ে ক্যারিয়ার শেষ করেছিলেন। সেখানে শচীনের চেয়ে ৩১ ম্যাচ কম খেলেই রেকর্ডটি নিজের নামে করে নিলেন রুট। সিরিজের প্রথম টেস্টে হেডিংলিতে ৬৬ রানের ইনিংসে টেন্ডুলকারের পাশে বসেছিলেন তিনি, এবার এজবাস্টনে তাকে ছাড়িয়ে শীর্ষে উঠলেন ৩৫ বছর বয়সী এই ব্যাটার।
টেস্টে সর্বাধিক ফিফটির তালিকায় রুটের (৬৯) ঠিক পরেই রয়েছেন শচীন (৬৮), শিবনারাইন চন্দরপল (৬৬), অ্যালান বর্ডার (৬৩), রাহুল দ্রাবিড় (৬৩) ও রিকি পন্টিং (৬২)।
তবে টেস্টে সবচেয়ে বেশি পঞ্চাশ ছোঁয়া (ফিফটি প্লাস) ইনিংসের মাইলফলকটি এখনো টেন্ডুলকারের দখলেই—১১৯টি (৫১ সেঞ্চুরি ও ৬৮ ফিফটি)। ১১০টি (৪১ সেঞ্চুরি ও ৬৯ ফিফটি) পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস নিয়ে দুই নম্বরে অবস্থান করছেন রুট। এই তালিকায় তাদের পেছনে আছেন জ্যাক ক্যালিস ও রিকি পন্টিং (১০৩টি করে) এবং রাহুল দ্রাবিড় (৯৯টি)।
ঐতিহাসিক এই রেকর্ডের দিনে আরও এক জোড়া মাইলফলক স্পর্শ করেছেন রুট। প্রথম ব্যাটার হিসেবে এজবাস্টনে এক হাজার টেস্ট রানের দেখা পেলেন তিনি।
এই মাঠে ১১ টেস্টে তার ঝুলিতে এখন এক হাজার ১৮ রান, যেখানে ১০ টেস্টে ৮৬৯ রান নিয়ে দুইয়ে অ্যালেন কুক। একই সঙ্গে এটি ছিল ইংল্যান্ডের ভিন্ন চারটি ভেন্যুতে রুটের এক হাজার রানের নজির। এর আগে লর্ডস (২,২০৩ রান), ম্যানচেস্টার (১,১২৮ রান) ও ওভালে (১,০৫০ রান) হাজার রান পূর্ণ করেছিলেন তিনি। বিশ্বের আর কেবল জ্যাক ক্যালিস ও রিকি পন্টিংয়ের ভিন্ন চারটি মাঠে এমন কীর্তি রয়েছে।
বর্তমানে টেস্টে রুটের মোট রান ১৪ হাজার ২৭৮। টেন্ডুলকারের অলটাইম রেকর্ড ১৫ হাজার ৯২১ রানকে ছোঁয়ার দৌড়ে দারুণভাবেই ছুটছেন এই ইংলিশ রানমেশিন।









