ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই হামলা চালাতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
এক প্রতিবেদনে আরব নিউজ জানিয়েছে, ইরানের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের কাছে অবস্থিত পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত সামরিক স্থাপনা। সেখানে মাটির অনেক গভীরে নির্মিত দুটি সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্স রয়েছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই যুদ্ধ ‘ছোটখাটো বিষয়’। এর এক দিন আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছিলেন, তিনি এই সংঘাতকে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করবেন না।
ভ্যান্সের মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, অনেকেই এটিকে যুদ্ধ বলেন না। আমি এটিকে সামরিক সংঘাত বলি, কারণ এটি আমাদের জন্য ছোটখাটো বিষয়। এটি বড় কিছু নয়। আমরা ভেনেজুয়েলায় করেছি, এটিও করেছি।
প্রসঙ্গত, গত জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের ‘ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেমৎ-এ পরিবর্তন আনা হয়। এর মাধ্যমে ‘যুদ্ধে’ নিহত বা আহত সেনাদের তথ্যকে ‘বিদেশি সামরিক অভিযান’ (ওভারসিস অপারেশনস) হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হচ্ছে।
এদিকে, ইরান ব্যাপক সামরিক অভিযানের মুখেও নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি প্রয়োজনে বড় ধরনের সামরিক হামলার হুমকি—এই দুই কৌশল একসঙ্গে অনুসরণ করছে।
তবে সংঘাত শুরুর পর থেকে ট্রাম্প কয়েকবার আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। আবার বিশ্ববাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে শেষ মুহূর্তে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি থেকেও সরে এসেছেন।
কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের বিশেষজ্ঞ অ্যারন ডেভিড মিলারের মতে, ট্রাম্প একই সঙ্গে দুটি বিষয় এড়াতে চাইছেন—ইরানের ওপর ব্যাপক বোমাবর্ষণে ফিরে যাওয়া এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে তেহরানকে বড় ধরনের ছাড় দেওয়া।
মিলার বলেন, ‘হোয়াইট হাউস বড় ধরনের যুদ্ধ চায় না। আবার বড় ধরনের ছাড় দিচ্ছে—এমন ধারণাও তৈরি করতে চায় না। তারা যে কৌশল নিয়েছে, তাতে দুটিই এড়ানো সম্ভব হচ্ছে।’









