থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উত্তর-পশ্চিম উপকণ্ঠে একটি স্কুলে এক শিক্ষার্থীর গুলিতে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। হামলাকারী শিক্ষার্থী নিজেকেও গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় আরও ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে দেশটির জাতীয় পুলিশ জানিয়েছে।
নিহতদের মধ্যে হামলাকারী শিক্ষার্থীও রয়েছেন। দেশটির শিক্ষামন্ত্রী প্রসার্ত জান্তারারুয়াংথং জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী—উভয়ই রয়েছেন। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, হামলাকারী ওই স্কুলেরই একজন শিক্ষার্থী।
ঘটনার পর ডেবসিরিন ননথাবুরি স্কুল থেকে আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা দৌড়ে বেরিয়ে আসে। আহতদের দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। অনেক শিক্ষককে কান্নায় ভেঙে পড়তে এবং একে অপরকে জড়িয়ে ধরতে দেখা যায়।
জরুরি সেবাকর্মীদের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, একজন আহতকে অ্যাম্বুলেন্সের বাইরে স্ট্রেচারে শোয়ানো হয়েছে এবং আরেকজনকে চিকিৎসাকর্মীরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছেন।
১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী জানান, শুরুতে তিনি ভেবেছিলেন বাইরে কেউ আতশবাজি ফাটাচ্ছে বা কোনো কিছুতে জোরে আঘাত করছে।
তিনি বলেন, প্রথমে বুঝতেই পারিনি এটা গুলির শব্দ। একের পর এক অনেক গুলির শব্দ হচ্ছিল। এরপর কিছুক্ষণ নীরবতা, তারপর আবার গুলি শুরু হয়।
জাতীয় পুলিশের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ত্রিরং ফোফান জানান, মোট সাতজন নিহত হয়েছেন এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন।
চলতি বছরে দ্বিতীয় স্কুলে গুলির ঘটনা
এটি চলতি বছরে থাইল্যান্ডে দ্বিতীয় স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনা। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে আরেকটি স্কুলে গুলির ঘটনায় একজন শিক্ষক নিহত এবং একজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছিলেন।
থাইল্যান্ডে বন্দুক সহিংসতা
থাইল্যান্ডে ব্যক্তিগত অস্ত্রের মালিকানা এবং বন্দুক সহিংসতার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেশি। গত ছয় বছরে দেশটিতে একাধিক প্রাণঘাতী বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে শিশুদেরও প্রাণহানির শিকার হতে হয়েছে।









