ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বড় পরিসরে আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষ করে যুদ্ধ আরও তীব্র হলে মধ্যপ্রাচ্যে পেন্টাগনের ইতোমধ্যেই কমে আসা প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর এবং অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষা গোলাবারুদের মজুত বিপজ্জনকভাবে ফুরিয়ে যেতে পারে—এমন উদ্বেগ তার এ সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
খবর নিউইয়র্ক টাইমসের।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, ইন্টারসেপ্টরের মজুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা এমন অনেক বিবেচনার একটি, যার কারণে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরু করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্প ও তার শীর্ষ উপদেষ্টারাও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা, ইরানের হামলার ঝুঁকিতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় মিত্রদের বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট এবং জ্বালানি ও শরণার্থী সংকট আরও বাড়ার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
ইরান-সংঘাত মোকাবিলায় ট্রাম্পের অবস্থানের সর্বশেষ এই পরিবর্তন আসে গত শুক্রবার (২৪ জুলাই)।সেদিন নিজের শীর্ষ উপদেষ্টা এবং মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বৈঠকে আলোচনার বিষয়ে অবগত দুই ব্যক্তি নিউইয়র্ক টাইমসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যক্তিগত ওই আলোচনায় মূল গুরুত্ব পেয়েছে পেন্টাগনের প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর এবং অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দ্রুত কমে আসা মজুত। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানান, গত শুক্রবার জর্ডানে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ব্যাপক হামলা প্রতিহত করার সময় একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে যায়। এতে তিন মার্কিন সেনা নিহত হন।
কর্মকর্তারা জানান, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করা সম্ভব হলেও এতে মধ্যপ্রাচ্যে অভিযান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের জন্য উপলভ্য ইন্টারসেপ্টরের মজুত বিপজ্জনকভাবে কমে যাবে। প্রেসিডেন্টকে জেনারেল কী পরামর্শ দেন, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তার মুখপাত্র।
হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চিয়াং বলেন, প্রেসিডেন্ট সব সময়ই তার অবস্থানে ধারাবাহিক থেকেছেন যে, তিনি কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেন। তবে হরমুজ প্রণালীতে বা মিত্রদের বিরুদ্ধে ইরান যদি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখে, তাহলে তিনি সব ধরনের বিকল্প নিজের হাতে রাখবেন।
তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা এবং বারবার হামলার মুখে পড়ার পর ইরানের জন্য একটি সমঝোতাভিত্তিক চুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে; অন্যথায় তারা জানে কী ঘটবে।









