বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগে মিয়ানমারের আট নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ৪১ নম্বর সীমান্ত পিলারসংলগ্ন গাছবুনিয়া নামক এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
বিজিবি বলছে, আটক ব্যক্তিরা নিজেদের মিয়ানমারের সদস্য বলে দাবি করেছেন। সন্ধ্যায় তাদের নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় হস্তান্তর করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—১। মংবা তংচংগা (৩৪), পিতা-মংসাচিং, গ্রাম-মেদেক, ২। মংম (২০), পিতা-খিংলা, গ্রাম-মেডাই, ৩। কিংলা থুয়াইং (২১), পিতা-থিংসা মং, গ্রাম-মেডাই, ৪। রুপার (১৯), পিতা-মৃত.-মুরিংগা, গ্রাম-মেদেক, ৫। থাইংসা মং (৪০), পিতা-মৃত. চাযাইলা, গ্রাম-ওয়াকেং, ৬। তুলি (২০), পিতা-থাইংসা মং, গ্রাম-ওয়াকেং, ৭। তানতানাইং (২০), পিতা-থাইংসা মং, গ্রাম-ওয়াকেং, ৮। মংতা নাইং (২০), পিতা-থাইংসা মং, গ্রাম-ওয়াকেং সকলের থানা-ডেকিবুনিয়া, জেলা-মংডু, মিয়ানমার।
তবে আটককৃত ব্যক্তিদের মধ্যে মংবা তংচংগা নামের একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে তার ভু্য়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম নিবন্ধন বিজিবির নিকট উপস্থাপন করে। তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম নিবন্ধন পর্যাবেক্ষণে কোন মিল পাওয়া যায়নি।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল বলেন, কক্সবাজার ৩৪বিজিবি আটজনজনকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। সীমান্ত অনুপ্রবেশের ঘটনায় মামলা করা হচ্ছে।
তারা মিয়ানমারের কোন বাহিনীর সদস্য কি না, তা যাচাই করা হবে।’
ঘুমধুম সীমান্তের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, আজ দুপুর সকালের দিকে মিয়ানমারের আটজন নাগরিক রাখাইন রাজ্যের কাঁটাতারের সীমানা অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। পরে সীমান্ত পিলার ৪১ নম্বর অতিক্রম করে গাছবুনিয়া এলাকায় এসে আশ্রয় নেন।
স্থানীয় লোকজন জানান, তাদের নিজেদের রাখাইন রাজ্যের সংঘাতের কারণে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে এসেছেন বলে জানান। খবর পেয়ে কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির আওতাধীন রেজুপাড়া বিওপির টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে।
কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম খায়রুল আলম পিবিজিএম, পিএসসি বলেন, আটক ব্যক্তিরা মিয়ানমারের নাগরিক। তবে মিয়ানমারের কোন বাহিনীর সদস্য কি না, এ মুহূর্তে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।









