উৎসবমুখর পরিবেশ আর দেশের জন্য এক বুক ব্যাকুলতা নিয়ে সিঙ্গাপুরে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বুধবার (২৭ মে) দেশটির ‘অনবোর্ড টেঙ্গা’ ময়দানে প্রবাসীদের এই বৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
ফজরের পর থেকেই উৎসবের আমেজে প্রবাসী মুসল্লিরা অনবোর্ড টেঙ্গা প্রাঙ্গণে আসতে শুরু করেন। সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত এই একক জামাতে বাংলাদেশিদের পাশাপাশি মালয়েশিয়ান সিঙ্গাপুরীয়ান ও ভারতীয় মুসলিমরাও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করেন।

নামাজ শেষে যখন দেশ, দেশের মানুষ এবং পরিবারের মঙ্গল কামনায় বিশেষ মোনাজাত শুরু হয়, তখন আর প্রবাসীরা চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। হাজার হাজার মাইল দূরে থাকা মা-বাবা, স্ত্রী আর সন্তানের কথা মনে করে মোনাজাতের একপর্যায়ে অনেকেই আবেগে আপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ঈদের অনুভূতি জানাতে গিয়ে বেশ কয়েকজন প্রবাসী বলেন, প্রবাসে ঈদ মানেই বুকের ভেতর চেপে রাখা এক অদৃশ্য কষ্ট। মুখে আমাদের হাসি থাকলেও, মনটা পড়ে থাকে দেশের মাটিতে। ঈদের দিন সকালে যখন ছোটবেলার বন্ধুদের আড্ডা আর মায়ের হাতের রান্নার কথা মনে পড়ে, তখন গোপনে চোখের জল ফেলা ছাড়া উপায় থাকে না।
নামাজ শেষ হতেই অনবোর্ড টেঙ্গা প্রাঙ্গণে দেখা যায় এক চেনা দৃশ্য। প্রবাসীরা মোবাইল ফোনে ভিডিও কল চালু করে দেশে থাকা প্রিয়জনদের সাথে যুক্ত হন। ওপার থেকে ভেসে আসা সন্তানের হাসি কিংবা মা-বাবার দোয়ায় মুহূর্তেই দূর হয়ে যায় প্রবাসীদের সব ক্লান্তি। এভাবেই প্রযুক্তির মাধ্যমে দূর প্রবাসে বসেই দেশের ঈদের আনন্দের অংশীদার হন তারা।

বিকেলে অবশ্য একাকীত্ব ভুলে প্রবাসীরা নিজেদের মতো করে আনন্দ ভ্রমণ ও প্রীতি আড্ডার আয়োজন করেন। শৈশবের ঈদ স্মৃতি রোমন্থন করেই কাটে তাদের প্রবাসের এই বিশেষ দিনটি।
প্রতিবারের মতো এবারও পবিত্র ঈদের নামাজে ইমামতি করেন প্রবাসী বাংলাদেশি মো. আবুল বাসার। নামাজের আগে মুসলিম উম্মাহর উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান করেন মো. ফজলুল বারী।
অনবোর্ড টেঙ্গার ব্যবস্থাপনায় ও নিরাপত্তা কর্মীদের সহযোগিতা এবং স্বেচ্ছাসেবীদের পরিশ্রমে অনুষ্ঠিত হয় মুসলমানদের পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজ।








