ঢাকা টেস্টের ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত কী নিষ্ফলা ড্র’ই লেখা? যেভাবে বৃষ্টি বাগড়া দিচ্ছে আর ব্যাটাররা মন খুলে উইকেটের চারপাশে ব্যাট ঘোরাচ্ছেন, তাতে টেস্টের পঞ্চম দিন ফল নিষ্পত্তি হওয়ার আশা কম। তবুও, মিরপুরে টেস্টের চতুর্থ দিনটা ভালো অবস্থানে থেকেই শেষ করেছে বাংলাদেশ।
দিন শেষে বাংলাদেশের রান ৩ উইকেট হারিয়ে ১৫২। লিড দাঁড়িয়েছে ১৭৯ রানের। হাফ সেঞ্চুরি করা মুমিনুল হক আউট হয়ে গেলেও প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা নাজমুল হোসেন শান্ত এই ইনিংসেও হাফ সেঞ্চুরি করেছেন এবং দিন শেষে ৫৮ রানে অপরাজিতও রয়েছেন। তার সঙ্গে অপরাজিত রয়েছেন ১৬ রানে মুশফিকুর রহিম।
শেষ দিন বাংলাদেশ যদি আড়াইশ বা ২৮০ রানের মত লিড নিয়ে ছেড়ে দেয় এবং অবিশ্বাস্য বোলিং করে পাকিস্তানকে দ্রুত অলআউট করতে পারে, তাহলে জিততেও পারে টাইগাররা।
বরাবরই টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটার মুমিনুল হক। চাপের মুখে যিনি প্রতিপক্ষের বোলারদের সামাল দিয়ে ইনিংস মেরামত করেন বাংলাদেশের। পাকিস্তানের বিপক্ষে চলমান টেস্টের দুই ইনিংসেও এর ব্যতিক্রম হয়নি।
প্রথম ইনিংসে ৯১ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও পেয়েছেন অর্ধশতকের দেখা। সবমিলিয়ে টানা ৫ ইনিংসে অর্ধশতকের দেখা পেলেন তিনি। এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ২৭তম অর্ধশতক। আর ফিফটি করেই তিনি স্পর্শ করেছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ৫ হাজার রানের মাইলফলক।
তৃতীয় বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। তার আগে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছেন সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। তার নামের পাশে রয়েছে ৭০ ম্যাচে ১৩৪ ইনিংসে ৩৮ গড়ে ৫৩১৪ রান, অর্ধশতক ৩১টি ও শতক ১০টি।
সবার ওপরে অবস্থান করেছেন মুশফিকুর রহিম। ১০১ টেস্টে ১৮৫ ইনিংসে ৩৮ গড়ে ৬৫৮১ রান করেছেন তিনি। ৩০ অর্ধশতক ও ১৩টি অর্ধশতক তার নামের পাশে। ডাবল সেঞ্চুরি ৩টি। উইকেটকিপারদের মধ্যে যা কিনা সর্বোচ্চ বিশ্ব ক্রিকেটে।
মুমিনুল ফিফটি করলেও দলীয় ১২৮ রানের মাথায় আউট হয়ে যান শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে উইকেটের পেছনে মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ দিয়ে। ততক্ষণে তার নামের পাশে লেখা হয়েছে ৫৬ রান, ১২০ বলে। এর আগে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৫ রানে মাহমুদুল হাসান জয় এবং ১০ রানে আউট হন সাদমান ইসলাম।
টেস্টের প্রথম ইনিংসে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ অলআউট হয়েছিল ৪১৩ রানে। জবাবে পাকিস্তান সংগ্রহ করে ৩৮৬ রান। ২৭ রানের লিড পেয়েছিল বাংলাদেশ।









