ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও। এই পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার সীমিত ওভারের সিরিজটি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের মধ্যকার এই সিরিজটি আগামী ১৩ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতে আয়োজনের কথা ছিল। তবে পুরো অঞ্চলজুড়ে চলমান নিরাপত্তা সংকটের কারণে সিরিজটি আয়োজন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বা শ্রীঙ্কা ক্রিকেট, তবে দুই বোর্ডই মনে করছে বর্তমান পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে সিরিজটি আয়োজন করা সম্ভব নয়। বিকল্প ভেন্যু নিয়ে আলোচনা হলেও যাতায়াত ও অন্যান্য আয়োজনের জটিলতার কারণে সিরিজটি অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও কম।
মূল সূচি অনুযায়ী, ছয় ম্যাচের এই সিরিজে তিনটি টি-টোয়েন্টি ও তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল। ১৩, ১৫ ও ১৭ মার্চ শারজাহতে টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো এবং ২০, ২২ ও ২৫ মার্চ দুবাইয়ে ওয়ানডে ম্যাচগুলো আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল।
এই সিরিজটি আফগানিস্তান দলের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নতুন অধিনায়ক ইবরাহিম জাদরানের নেতৃত্বে এটিই হতো তাদের প্রথম সিরিজ। বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার পর আফগানিস্তানের নেতৃত্বের দায়িত্ব নিয়েছেন এই ওপেনার। রশিদ খানকে বাদ দিয়ে যাকে নতুন অধিনায়ক করা হয়েছে।
ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা এবং এর পাল্টা জবাব দানের কারণে পুরো পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতময় হয়ে উঠেছে। যার প্রভাব ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সূচিতে পড়তে শুরু করেছে। গত সপ্তাহে নেপালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল আইসিসি মেন্স ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ লিগ-২ এর ছয়টি ম্যাচ। যেগুলো স্থগিত করা হয়েছে। ওই ম্যাচগুলোতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও স্বাগতিক নেপালের।
এছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় থাকা কয়েকটি দলের যাতায়াত পরিকল্পনাও ব্যাহত হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার আকাশপথ আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক দলই ভ্রমণ জটিলতায় পড়েছে।
বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পরও ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা দলের ক্রিকেটাররা কলকাতায় আটকে পড়েছিলেন। অবশেষে রোববার তারা জানতে পারেন যে, মঙ্গলবার তারা নিজ দেশে ফিরতে পারবেন।









