২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি গোপন সমঝোতা প্রস্তাবের ইঙ্গিত দিয়েছিল রাশিয়া, যেখানে ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহারের বিনিময়ে ইউক্রেনে রাশিয়ার কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ না করার কথা বলা হয়েছিল। সে সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের রাশিয়া ও ইউরোপবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ফিওনা হিল মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া সাক্ষ্যে এ তথ্য জানান।
ফিওনা হিল বলেন, রুশ কর্মকর্তারা বারবার একটি ‘অদ্ভুত অদলবদল ব্যবস্থার’ কথা তুলেছিলেন, যেখানে ভেনেজুয়েলা ও ইউক্রেনকে একসঙ্গে প্যাকেজ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তার কথায়, রাশিয়া চেয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র যদি ভেনেজুয়েলায় নিজের মতো করে কাজ করে, তাহলে ইউরোপে রাশিয়ার কর্মকাণ্ডে ওয়াশিংটনও একই মনোভাব দেখাবে।
হিলের বক্তব্য অনুযায়ী, মস্কো সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়নি। তবে সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আনাতোলি আন্তোনভ একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইউক্রেনের প্রশ্নে ছাড় পেলে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে আপত্তি করবে না রাশিয়া। বিষয়টি বোঝাতে রুশ গণমাধ্যমে মনরো নীতির উল্লেখও করা হয়। উনিশ শতকের সেই নীতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম গোলার্ধে ইউরোপীয় হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করতো এবং বিনিময়ে ইউরোপীয় বিষয়ে দূরে থাকার কথা বলতো।
ফিওনা হিল জানান, সে সময় হোয়াইট হাউজ এ ধরনের সমঝোতায় আগ্রহ দেখায়নি। ট্রাম্প তাকে ২০১৯ সালের এপ্রিলে মস্কো পাঠান স্পষ্ট বার্তা দিতে যে, ইউক্রেন ও ভেনেজুয়েলা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তখন যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের সঙ্গে একমত হয়ে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা হুয়ান গুইদোকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
তবে কয়েক বছর পর পরিস্থিতি বদলে গেছে। সাম্প্রতিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পর ঘোষণা দিয়েছে, ভেনেজুয়েলা নীতি এখন তারা নিজেরাই পরিচালনা করবে। একই সঙ্গে ট্রাম্প আবার গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দিয়েছেন এবং মাদক পাচারের অভিযোগে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধেও সামরিক পদক্ষেপের কথা বলেছেন।
ফিওনা হিলের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ ক্রেমলিনের জন্য আনন্দের কারণ হতে পারে। কারণ এতে বড় শক্তিগুলোর প্রভাববলয় প্রতিষ্ঠার ধারণা শক্তিশালী হয়—যেখানে শক্তিই ন্যায়ের মাপকাঠি। তিনি বার্তা সংস্থা এপি’কে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা অভিযান ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার অবস্থানকে ‘অবৈধ’ বলে নিন্দা করা আরও কঠিন করে তুলেছে।
ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার অভিযানে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেছে, এটি ছিল একটি আইন প্রয়োগকারী অভিযান এবং মাদুরোকে আটক করা আইনসম্মত। তবে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘আগ্রাসন’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এখনো এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি।










