সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় ইউক্রেনকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি বলেছেন, এই হামলার জবাব দেওয়া হবে এবং ইরান কোনো হামলা বিনা জবাবে ছেড়ে দেবে না।
রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আজিজি এ কথা বলেন। এর আগে কাস্পিয়ান সাগরে ইরানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় একজন নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হন। ইরান এই হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছে। আজিজি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি বা হামলার জবাব দিতে দেশটি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তিনি লেখেন, ‘ইরানের ওপর যেকোনো হামলার মূল্য দিতে হয়। অতীতেও তা হয়েছে, এখনো হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এটি ভালোভাবেই জানে। ইউক্রেনও খুব শিগগির বুঝতে পারবে, ইরান কোনো পদক্ষেপের জবাব না দিয়ে ছেড়ে দেয় না।
’ আরেকটি পোস্টে তিনি বলেন, ‘যারা ভুল হিসাব করেছে, তাদের তালিকা আরো বড় হচ্ছে।’
একই ঘটনায় রবিবার প্রতিক্রিয়া জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাগচি। তিনি ইরানি জাহাজে হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ ঘটনার জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে। এক্সে দেওয়া পোস্টে আরাগচি দাবি করেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিজেই ইরানি জাহাজে হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, ইউরোপকে নিজেদের যুদ্ধে টেনে আনতে ইসরায়েলের ইচ্ছায় এই হামলা চালানো হয়েছে এবং এর মাধ্যমে জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘন করা হয়েছে। আরাগচি লেখেন, ‘জেলেনস্কি একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছেন। এতে একজন নাবিক নিহত হয়েছেন। ইউরোপকে নিজেদের যুদ্ধে টেনে আনতে ইসরায়েলের ইচ্ছায় প্রকাশ্যে জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘন করে এই হামলা চালানো হয়েছে।’ তিনি আরো জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময়ও তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই হামলার জবাব না দিয়ে ইরান বসে থাকবে না।
হামলার ঘটনায় এর আগেই তেহরানে ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে ইরান। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়। ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনার তথ্য অনুযায়ী, ইউরেশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মহাপরিচালক মানুচেহর মোরাদি ইউক্রেনের কূটনীতিবিদের কাছে তেহরানের কড়া প্রতিবাদ তুলে ধরেন। তিনি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলাকে ‘শত্রুতাপূর্ণ ও অপরাধমূলক কাজ’ বলে উল্লেখ করেন। মোরাদির ভাষ্য, এই হামলা জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন এবং এটি আগ্রাসনের শামিল। পাশাপাশি কাস্পিয়ান সাগরসংলগ্ন দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্যও এটি একটি বড় হুমকি। তিনি বলেন, এই ঘটনার জন্য ইউক্রেনকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটি নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে। বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের নাগরিকদের জীবন ও সম্পদের ওপর কোনো হামলা বিনা জবাবে ছেড়ে দেওয়া হবে না। ইরানের কূটনৈতিক প্রতিবাদের আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক্সে এক পোস্টে জানান, ইউক্রেন রাশিয়ার সামরিক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে দূরপাল্লার হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, এসব হামলার মধ্যে কাস্পিয়ান সাগরের লক্ষ্যবস্তুও ছিল। তবে জেলেনস্কি তার পোস্টে কোনো ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার কথা উল্লেখ করেননি।









