লন্ডনের নিউহ্যাম বারাসহ জাতীয়ভাবে রোববার (৯ নভেম্বর) যথাযোগ্য মর্যাদা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে উদযাপিত হয়েছে রিমেমব্রেন্স সানডে। এদিন যুক্তরাজ্য ও কমনওয়েলথের জনগণ প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এবং পরবর্তী সংঘর্ষে নিহত বীর সৈনিকদের স্মরণ করে।
সকালে নিউহ্যাম টাউন হল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় আনুষ্ঠানিক স্মরণসভা। স্থানীয় কাউন্সিলার, সংসদ সদস্য, কমিউনিটি নেতা, পুলিশ, অগ্নিনির্বাপণ কর্মী, সাবেক সেনাসদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা এতে অংশ নেন। বেলা ১১টায় দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হয়, এর মাধ্যমে সব আত্মদানকারী বীরদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়।
নীরবতার পর স্থানীয় প্রতিনিধি ও সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ইস্টহাম সেন্ট্রাল পার্কে অবস্থিত সেনেটাফ (স্মৃতিস্তম্ভ)-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। নিউহ্যাম মেয়র রুকসানা ফাইজ প্রথমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তারপর পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন নিউহাম-এর লেবার দলীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী স্যার স্টিফেন টীম।
পরে বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন, স্কুল এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা একে একে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অনুষ্ঠানে বাজানো হয় ‘‘The Last Post” এবং “Reveille” সুর, যা উপস্থিত জনতাকে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করে।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে একটি প্রার্থনার মাধ্যমে। উপস্থিত সবাই শান্তি ও মানবতার জন্য প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে মুক্ত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
যুক্তরাজ্যজুড়ে পালন
রিমেমব্রেন্স সানডে উপলক্ষে সেদিন সারা যুক্তরাজ্যজুড়ে অনুরূপ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। রাজধানী লন্ডনের সেন্ট্রাল ওয়েস্টমিনস্টারে প্রধান জাতীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রাজা চার্লস তৃতীয়, প্রধানমন্ত্রী এবং বিভিন্ন দলের নেতা শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। একইসঙ্গে দেশজুড়ে চার্চ, স্কুল ও স্মৃতিস্তম্ভে নাগরিকদের অংশগ্রহণে নীরবতা পালন ও শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে দিনটি পালন করা হয়।
রিমেমব্রেন্স সানডে যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী এক গুরুত্বপূর্ণ দিন, যা অতীতের ত্যাগকে স্মরণ করিয়ে দেয় এবং শান্তি, ঐক্য ও মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দেয়।










