যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও উপদেষ্টা জেরাড কুশনার বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন হামাস সৎ উদ্দেশ্যে মৃত জিম্মিদের মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করছে। একইসঙ্গে ইচ্ছাকৃতভাবে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত করছে না বলেও জানান তিনি।
সোমবার (২০ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত গাজায় যুদ্ধবিরতির কার্যকর হওয়ার পর ২৮ মৃত জিম্মির মধ্যে এখনও ১৬ জনের মরদেহ গাজায় রয়েছে।
হামাস জানিয়েছে, ইসরাইলের ব্যাপক ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে গাজার অবশিষ্ট মরদেহগুলো খুঁজে পেতে তাদের সমস্যা হচ্ছে। তবে ইসরাইল দাবি করেছে, হামাসের কাছে অধিকাংশ মরদেহ আছে এবং যেকোনো সময় তা হস্তান্তর করা সম্ভব।
হামাস ও ইসরাইলের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র মনোভাব জানতে চাইলে সিবিএসের এক অনুষ্ঠানে জেরাড কুশনার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও মধ্যস্থতাকারীদের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইসরাইল যে তথ্য দিয়েছে তা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দ্রুত হামাসের কাছে পৌঁছানো হচ্ছে যাতে দ্রুত মরদেহ উদ্ধার করা যায়।
তিনি আরও বলেন, ‘একে অপরকে দোষারোপ করার পরিবর্তে আমরা উভয় পক্ষকে দায়িত্বশীলভাবে সমাধানের পথ খুঁজতে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করছি।’
হামাস কি সত্যিই মরদেহগুলো খুঁজছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে কুশনার ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দেন। তিনি বলেন, ‘মধ্যস্থতাকারীদের থেকে আমরা যে তথ্য পাচ্ছি, তার অর্থ হলো হামাস এখন পর্যন্ত চুক্তিকে সম্মান করার চেষ্টা করছে। অবশ্য পরিস্থিতি যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে, আমরা তাদের কার্যক্রম নজরে রাখছি।’
এদিকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে সেনাদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে রোববার গাজায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। আল জাজিরা জানায়, গাজার খান ইউনিস এলাকায় একের পর এক বিমান হামলায় আকাশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলী। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ইসরাইলি গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলায় নিহত হয়েছে অনেকে। আহতদের দ্রুত নাসের হাসপাতালে নেয়া হয়। নিহতদের বেশিরভাগই শিশু বলে জানান চিকিৎসকরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজা উপত্যকার নুসাইরাত, খান ইউনিস, রাফাহ ও আল-জাওয়াইদা এলাকায় হামলা চালানো হয়। আল-জাওয়াইদা শহরে ইসরাইলি বিমান হামলায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সশস্ত্র অভিজাত শাখা আল-কাসেম ব্রিগেডের কমান্ডারসহ বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন বলে জানায় আল-আওদা হাসপাতাল।
সেনাদের ওপর এ হামলার প্রতিবাদে হামাসকে চরম মূল্য দিতে হবে বলেও হুশিঁয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ। তবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের দাবি অস্বীকার করেছে হামাস।










