২০২৫ সালের শুরু থেকে ফ্রান্স-ইতালি সীমান্তে প্রায় ১০ হাজার ৪০০ জন অভিবাসীর প্রবেশ আটকে দিয়েছে ফরাসি সীমান্ত পুলিশ (পিএএফ)। বিশেষ করে দুই দেশের সীমান্তবর্তী আল্প-মারিতিম অঞ্চলে মন্তো শহরের কাছে এই আটক অভিযান বেশি হয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইতালি থেকে ফরাসি সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টার সংখ্যা আবারও বেড়ে গেছে। তবে সীমান্তে বাড়তি পুলিশি নজরদারি ও সামরিকীকরণ অভিবাসীদের আরও ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিতে বাধ্য করছে।
স্থানীয় প্রেফেকচুরের প্রেফে বা প্রধান লরো হুতিও ফরাসি দৈনিক লো ফিগারোকে জানান, বছরের শুরু থেকে প্রায় ১০ হাজার ৪০০ জন অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘গত আট মাসে আটক অভিযান কিছুটা (আট শতাংশ) কমেছে, কিন্তু অভিবাসন প্রবাহ এখনও খুবই বেশি। গড়ে প্রতি সপ্তাহে ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আটক করে আবার ইতালিতে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।’
তার দাবি, গত তিন সপ্তাহ ধরে আবারও আটকের সংখ্যা বাড়ছে। অনেক সময় দৈনিক ৫০ থেকে ৮০ জনকে আটক করা হচ্ছে।
প্রশাসনের ধারণা, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ আটকের সংখ্যা ১৫ হাজার পেরিয়ে যেতে পারে। সংখ্যাটি ২০২৪ সালের সমান হলেও ২০২৩ সালের ৪৪ হাজারের তুলনায় অনেক কম। তবে এ সংখ্যাগুলো কিছুটা বিভ্রান্তিকরও, কারণ অনেক অভিবাসীকে একাধিকবার আটক ও ফেরত পাঠানো হয়।
- /
- প্রবাস
ফ্রান্স-ইতালি সীমান্তে আটক ১০ হাজারেরও বেশি অভিবাসী
প্রবাস ডেস্ক | প্রকাশিত: ০১:১৪ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
এআই দিয়ে বানানো/প্রতীকী ছবি
২০২৫ সালের শুরু থেকে ফ্রান্স-ইতালি সীমান্তে প্রায় ১০ হাজার ৪০০ জন অভিবাসীর প্রবেশ আটকে দিয়েছে ফরাসি সীমান্ত পুলিশ (পিএএফ)। বিশেষ করে দুই দেশের সীমান্তবর্তী আল্প-মারিতিম অঞ্চলে মন্তো শহরের কাছে এই আটক অভিযান বেশি হয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইতালি থেকে ফরাসি সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টার সংখ্যা আবারও বেড়ে গেছে। তবে সীমান্তে বাড়তি পুলিশি নজরদারি ও সামরিকীকরণ অভিবাসীদের আরও ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিতে বাধ্য করছে।
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় প্রেফেকচুরের প্রেফে বা প্রধান লরো হুতিও ফরাসি দৈনিক লো ফিগারোকে জানান, বছরের শুরু থেকে প্রায় ১০ হাজার ৪০০ জন অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘গত আট মাসে আটক অভিযান কিছুটা (আট শতাংশ) কমেছে, কিন্তু অভিবাসন প্রবাহ এখনও খুবই বেশি। গড়ে প্রতি সপ্তাহে ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আটক করে আবার ইতালিতে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।’
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
তার দাবি, গত তিন সপ্তাহ ধরে আবারও আটকের সংখ্যা বাড়ছে। অনেক সময় দৈনিক ৫০ থেকে ৮০ জনকে আটক করা হচ্ছে।
প্রশাসনের ধারণা, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ আটকের সংখ্যা ১৫ হাজার পেরিয়ে যেতে পারে। সংখ্যাটি ২০২৪ সালের সমান হলেও ২০২৩ সালের ৪৪ হাজারের তুলনায় অনেক কম। তবে এ সংখ্যাগুলো কিছুটা বিভ্রান্তিকরও, কারণ অনেক অভিবাসীকে একাধিকবার আটক ও ফেরত পাঠানো হয়।
বিজ্ঞাপন
প্রেফেকচুরের তথ্য অনুযায়ী, আটক হওয়া অভিবাসীদের ৪২ শতাংশই সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করেছেন দুই দেশের মধ্যকার আঞ্চলিক ট্রেনে চড়ে, যা ইতালির ভেন্তিমিলিয়া থেকে ফ্রান্সের কোত দাজুর উপকূল ধরে চলাচল করে।
এ বছর আটক হওয়া অভিবাসীদের বেশিরভাগই তিউনিশিয়া, আলজেরিয়া ও মরক্কো থেকে এসেছেন। এর মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ হলেন অভিভাবকবিহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক। কিশোরদের আটক করার পর স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয়।
কঠোর নজরদারিতে সীমান্ত
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফ্রান্স-ইতালি সীমান্তে নজরদারি বহুগুণ বেড়ে গেছে। প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ জন পুলিশ কর্মকর্তা এখানে দায়িত্ব পালন করছেন। তারা রেলপথ, মহাসড়ক ও পায়ে হাঁটার রুটগুলোতে নজরদারি করেন। এর সঙ্গে নিয়মিত ড্রোন উড্ডয়ন ও বিমান টহলও চালানো হয়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে জানায় সংগঠনগুলো। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি ক্রিস্টিন পুপোঁ জানান, আমাদের চাপের ফলে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষ করে অভিভাবকহীন নাবালকদের আর নিয়মিতভাবে ইতালিতে ফেরত পাঠানো হচ্ছে না। বরং তাদের বয়স স্বীকৃত হলে সামাজিক সুরক্ষা বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।’
দশ বছরে ৪৮ জনের মৃত্যু
সীমান্তে কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে অভিবাসীরা এখন অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিচ্ছেন। কেউ রেললাইন ধরে হেঁটে যান, কেউ মহাসড়ক ধরে, আবার কেউ ট্রাকের ভেতরে লুকিয়ে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করেন।
সবচেয়ে বিপজ্জনক পথ হলো ভেন্তিমিলিয়া-মন্তো রুট৷ ২০২৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বরের সপ্তাহান্তে সাতজন অভিবাসীকে সীমান্তের পাহাড়ি একটি দুর্গম পথ থেকে আটক করা হয়, যেটি পার হতে ৭ থেকে ১০ ঘণ্টা সময় লাগে এবং স্থানীয়রা একে ‘মৃত্যুর পথ’ বলে ডাকে। এ সময় একজন অভিবাসী পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন।










