মরুর দেশ কুয়েতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল মৌসুমী ফল উৎসব। বাংলাদেশের আম, কাঁঠাল, তরমুজ, আনারস, ড্রাগন ফ্রুট, পেপে ও বেদানাসহ নানা ধরনের ফল জায়গা করে নেয় এই উৎসবে।
এশিয়ান সুপার শপের সহযোগিতায় বাংলাদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন কুয়েতের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ প্রেসক্লাব কুয়েতের সমন্বয়ে শুক্রবার (১৮ জুলাই) অনুষ্ঠিত হয় এই ফল উৎসব। কুয়েত পৌরসভার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন কুয়েতের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সদস্যরা এই উৎসবে অংশ নেন। এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি অনেক বিদেশিও অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন কুয়েতের সভাপতি জাহাঙ্গীর খান পলাশ। প্রধান অতিথি হিসেবে ফল উৎসবে যোগ দেন সুয়েক পৌরসভার নির্বাহী পরিচালক খালেদ সুলতান আল উচাইমি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ প্রেসক্লাব কুয়েতের সভাপতি সাংবাদিক মঈন উদ্দিন সরকার সুমন, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন কুয়েতের সিনিয়র সহসভাপতি সারোয়ার্দী, প্রকৌশলী আতিকুর রহমান, প্রকৌশলী জুলফিকার পথিক, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব কুয়েতের সাধারন সম্পাদক আ হ জুবেদ, নজরুল, মেহেদি ও শহিদ প্রমুখ।
ফল উৎসবের সার্বিক সার্বিক তত্বাবধানে করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন, ইসমাইল হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার কালাম। ফল উৎসবে অংশ নেয়া অতিথিরা বাংলাদেশের রসালো ফল আম, কাঠাঁল, আনারস, পেয়ারা, আমড়া, পেঁপে, লটকন, লিচু, ড্রাগন ফ্রুটস ও তরমুজসহ নানা ফলের স্বাদ নেন।
সবাই বাংলাদেশি মৌসুমী ফলের স্বাদে অভিভূত হয়েছেন। ফল উৎসবে প্রধান অতিথি সুয়েক পৌরসভা নির্বাহী পরিচালক খালেদ সুলতান আল উচাইমি বলেন,
আমি এই প্রথম কুয়েতে বাংলাদেশের আম, ড্রাগন ফল আর কাঁঠাল খাচ্ছি। স্বাদ-এক কথায় অসাধারণ!
এই কুয়েতি আরও বলেন,
এসব ফল যদি কুয়েতে আমদানি করা হয়, আমি নিশ্চিত সবাই অনেক ভালোবাসবে, আরও বেশি করে চাইবে। বাংলাদেশ ও কুয়েত সরকার যদি একসাথে মিলে সরকারিভাবে ফল আমদানির ব্যবস্থা করে, বড় বড় মার্কেটে এসব ফল পরিবেশন করা হয় এবং কেউ যদি এগুলো একবার খায়, তিনি বারবার খেতে চাইবেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ফল সত্যিই বিশ্বমানের। কুয়েত-বাংলাদেশ কৃষি বাণিজ্যে এগিয়ে গেলে দুই দেশের মানুষই লাভবান হবেন। উৎসবে অংশ নেয়া কয়েকজন বিদেশি জানান, তারা এই প্রথমবার বাংলাদেশের আম ও কাঁঠাল খেলেন। তাদের খুবই ভালো লেগেছে। যদি বাজারে নিয়মিত পাওয়া যায়, তারা আগ্রহ নিয়ে কিনবে বলেও জানান।
এক মিশরীয় অতিথি বলেন,
বাংলাদেশের ফল সত্যিই অনেক সুস্বাদু। আমি প্রথমবার বাংলাদেশের কাঁঠাল আর আম খেলাম। স্বাদ অসাধারণ! যদি বাণিজ্যিকভাবে এই ফল কুয়েতে আনা যায়, আমি নিশ্চিত সবাই পছন্দ করবে। এমন ফল বারবার খেতে মন চায়।
দূর প্রবাসে দেশের মৌসুমী ফল দেখে বেশ খুশি প্রবাসী বাংলাদেশিরাও। তারা বলেন, ‘এমন আয়োজন যেন প্রতি বছর হয়, আরও বড় পরিসরে হয়। আমরা চাই কুয়েতিদের পাশাপাশি বিদেশিরা সবাই এসে বাংলাদেশের ফলের স্বাদ নিক।’
আয়োজকরা বলেন, তাদের উদ্দেশ্য শুধু ফল প্রদর্শন নয়, বাংলাদেশের কৃষিপণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরা। কুয়েতের মতো বাজারে নিয়মিত সরবরাহ হলে এটি হবে কৃষকের জন্য বড় পাওয়া।
বাংলাদেশে এত ফলমূল উৎপাদন হলেও তা কুয়েতে এত কম পরিমাণে আসে কেন। এখানকার পাইকারি আমদানিকারকরা বলছেন, মূল সমস্যা হলো অব্যবস্থাপনা। যথাযথ রফতানি পরিকল্পনার অভাব, সরাসরি ফ্লাইট সংকট এবং বিমানবন্দর ও কাস্টমসে দীর্ঘসূত্রিতা সব মিলিয়ে ফল ঠিক সময়মতো পৌঁছায় না। ফলে পচে যায়।
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ফল উৎপাদনকারী দেশ হলেও রফতানিতে বেশ পিছিয়ে। কঠোর নজরদারিসহ সরকারিভাবে সহযোগিতা না পেলে বাংলাদেশের পক্ষে এই বিপুল চাহিদাসম্পন্ন বাজার ধরা সম্ভব।
বাংলাদেশের এসব মৌসুমি ফল যদি নিয়মিত কুয়েতের বাজারে পাওয়া যায়, তাহলে চাহিদা বাড়বে বহুগুণ। এতে কেবল বাণিজ্য নয়, দুই দেশের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্বেরও এক মধুর উদাহরণ হবে বলে মত সংশ্লিষ্টদের।









