সারাদেশে গত কয়েক দিনের তীব্র তাপদাহের পর স্বস্তির বৃষ্টির সঙ্গে ধেয়ে আসা কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৪ জন। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের সাতটি জেলায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে গাইবান্ধায় ৫ জন, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ ও ঠাকুরগাঁওয়ে ২ জন করে এবং পঞ্চগড়, বগুড়া ও নাটোরে ১ জন করে নিহত হয়েছেন।
গাইবান্ধা
গাইবান্ধায় বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। বিকেলে জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নে গরু আনতে গিয়ে একই স্থানে তিনজনের মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল চারটার দিকে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে গোয়ালে গরু তোলার সময় সরাসরি বজ্রপাতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সুজা চৌধুরীর ছেলে ফুয়াদ (৪০), ছোটন মিয়ার ছেলে রাফি (১৫) ও নবীর হোসেনের ছেলে মিজান (২০) ঘটনাস্থলেই মারা যান। এসময় পাশে থাকা একটি গরুও মারা যায়।
অন্যদিকে ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের জামিরাচরে বজ্রপাতে ঘোড়াচালক মানিক মিয়ার (৩৫) মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান মন্ডল।
এছাড়া সাঘাটায় বজ্রপাতের বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে বলে সাঘাটা ইউএনও আশরাফুল কবির নিশ্চিত করেন। সাঘাটা ও ফুলছড়িতে আরও দুইজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জামালপুর
জামালপুরে তীব্র তাপদাহের পর হঠাৎ শুরু হওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও বজ্রপাতে এক নারীসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। বিকেল ৩টার দিকে শুরু হওয়া এই ঝড়ে মেলান্দহ উপজেলার পশ্চিম কড়ইচুড়া গ্রামে রান্নাঘরে কাজ করার সময় মর্জিনা বেগম (২২) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের রাজিবের স্ত্রী।
অন্যদিকে, সদর উপজেলার চরযথার্থপুর গ্রামে মাঠ থেকে গরু নিয়ে আসার সময় বজ্রপাতের শিকার হয়ে হাসমত আলী (৪৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়। এসব ঘটনায় আরও ৫ জন আহত হয়ে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুর রহমান ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।









