
রূপকথার গল্পের মতোই মনে হলো পুরো ম্যাচকে। যে রূপকথায় বারবারই সামনে আসে রিয়াল মাদ্রিদের প্রত্যাবর্তনের গল্প। সান্তিয়ােগো বার্নাব্যুতে মঙ্গলাবার রাতে কোপা দেল রে-তে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে এমনি এক ম্যাচ দেখলো ফুটবলপ্রেমীরা। যে ম্যাচের ঝাঁজ অনেকদিন লেগে থাকবে ভক্তদের চোখে মুখে।
রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে তিনবার পিছিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকেছে রিয়াল। ফাইনালে ওঠার জন্য এটাই যথেষ্ঠ হয়েছে রিয়ালের। কেননা প্রথম লেগে সোসিয়েদাদের মাঠ থেকে ১-০ এগিয়ে ছিল রিয়াল। দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৪ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে উঠেছে কার্লো আনচেলত্তির দল।
সোসিয়েদাদ রিয়ালকে চমকে দেয় ১৬ মিনিটেই। আন্দের বারেনেচিয়া গোল করে এগিয়ে নেন সফরকারীদের। তবে ১৫ মিনিট পর ব্রাজিলিয়ান তারকা এড্রিকের দুর্দান্ত একটি চিপ শটে সমতায় ফেরে রিয়াল।
কিন্তু ৮০ মিনিটের মধ্যে সোসিয়েদাদের পাবলো মারিন ও মিকেল ওয়ারজাবালের দুটি শট দুবারই ডেভিড আলাবার গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে রিয়ালের জালে ঢুকে যায়। এতে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সোসিয়েদাদ।
তবে দুই মিনিট পরই রিয়াল ঘুরে দাঁড়ায়। জুড বেলিংহাম কাছ থেকে প্রথম টাচে গোল করেন এবং চার মিনিট পর রদ্রিগোর কর্নার থেকে অরলিয়েন চুয়োমেনি হেড করে ৩-৩ সমতা ফেরান।
কিন্তু আলাবার দুর্ভাগ্য এখানেই শেষ হয়নি। কর্নার পরিষ্কার করতে ব্যর্থ হলে সোসিয়েদাদের ওয়ারজাবাল ফাঁকা পেয়ে হেড করে বসেন। ফলে ৪-৩ ব্যবধানে সোসিয়েদাদ এগিয়ে যাওয়ায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অবশেষে বদলি খেলোয়াড় আরদা গুলারের কর্নার থেকে অ্যান্তোনিও রুডিগার হেডে গোল করে রিয়ালকে ফাইনালে পৌঁছে দেন।
গত এক দশকে মাত্র একবার স্প্যানিশ কাপ জেতা রিয়াল মাদ্রিদ আগামী মাসে সেভিয়ায় বার্সেলোনা বা অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ফাইনালে লড়বে। অ্যাতলেতিকো মঙ্গলবার বার্সার বিপক্ষে ৪-৪ ড্র করে দ্বিতীয় লেগের আগে লড়াই জমিয়ে রেখেছে।
ম্যাচ শেষে রিয়ালের মিডফিল্ডার চুয়োমেনি ক্লাব টিভিতে বলেন, আমি আমার অনুভূতি প্রকাশ করতে পারছি না। হ্যাঁ, আমরা খুশি। কারণ আমরা ফাইনালে খেলবো। তবে ম্যাচের পারফরম্যান্স নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট নই।
ফরাসি এ তারকা আরও বলেন, আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছি, জানতাম আমাদের বেঞ্চে দুর্দান্ত খেলোয়াড় রয়েছে, তাই সুযোগ আসবেই। কিন্তু আমাদের আরও ভালো খেলতে হবে…।
রিয়াল ম্যানেজার আনচেলত্তি তারকা স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপেকে প্রথমার্ধে বিশ্রাম দেন। ফলে ১৮ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান এন্ড্রিককে শুরুর একাদশে সুযোগ দেওয়া হয়। সুযোগ পেয়ে সেটি কাজে লাগাতে ভুল করেননি এন্ড্রিক।