সিডনিতে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়ার পুনর্মিলনী। শনিবার (১৮ জুলাই) সিডনি শহরের ওয়েন্টওয়ার্থভিল রেডগাম সেন্টারে বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ পুনর্মিলনীতে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে জগন্নাথ হলের সাবেক শিক্ষার্থী, তাদের পরিবারের সদস্য এবং শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের সূচনায় মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী ভূমির প্রতি সম্মান জানিয়ে ‘Acknowledgement of Country’ প্রদান করা হয়।
পরে জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়ার প্রবীণ সদস্যদের অংশগ্রহণে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী পর্বে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত গান ‘আলোকেরই ঝর্ণাধারায় ধুইয়ে দাও’-এর সঙ্গে মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে এবং পুরো মিলনমেলায় সৃষ্টি করে আবেগঘন ও নান্দনিক পরিবেশ।
পুনর্মিলনীতে দীর্ঘদিন পর একত্রিত হয়ে সাবেক শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নানা স্মৃতি রোমন্থন করেন। হাসি, আড্ডা ও স্মৃতিচারণে মুখর হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কাছে জগন্নাথ হলের ঐতিহ্য, ইতিহাস ও গৌরবময় উত্তরাধিকার তুলে ধরার প্রয়াসও ছিল এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

উদ্বোধনী বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কমল জোয়ার্দ্দার উপস্থিত সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। তিনি বিশেষভাবে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যারা এই পুনর্মিলনীকে সফল ও সার্থক করে তুলতে নিরলস পরিশ্রম করেছেন এবং স্পন্সর হিসেবে আর্থিক ও সার্বিক সহযোগিতা করেছেন।
আয়োজক কমিটির কালচারাল সেক্রেটারি শতদল তালুকদার বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রাজ্য, বিশেষ করে সুদূর মেলবোর্ন ও ব্রিসবেন থেকে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা এই পুনর্মিলনীতে অংশ নিতে এসেছেন। তাদের এই আন্তরিক উপস্থিতি আমাদের ভীষণ আনন্দিত করেছে। এটি প্রমাণ করে, জগন্নাথ হলের প্রতি ভালোবাসা ও বন্ধনের টান ভৌগোলিক দূরত্বকেও হার মানায়।’

রিইউনিয়ন কমিটির আরেকজন সদস্য এবং অনুষ্ঠানের অন্যতম স্পনসর বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রাজ্য থেকে জগন্নাথ হলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এই মিলনমেলা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। এ ধরনের আয়োজন শুধু পুরোনো স্মৃতিকে ফিরিয়ে আনে না, বরং প্রবাসে আমাদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে। আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ আমাদের ঐক্য ও সম্প্রীতির ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে।’

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল জগন্নাথ হলের প্রধান ফটক এবং দক্ষিণ ভবনের নান্দনিক প্রতিরূপ, যা উপস্থিত অ্যালামনাইদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতিতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। পাশাপাশি সবার প্রিয় ‘নেপালদার চায়ের টং’-এর প্রতিরূপও অ্যালামনাই সদস্যদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। সেখানে অনেকেই স্মৃতিচারণের পাশাপাশি ছবি তুলে মুহূর্তগুলোকে স্মরণীয় করে রাখেন।
সাংস্কৃতিক পর্বে ছিল সংগীত, নৃত্য ও বিভিন্ন মনোজ্ঞ পরিবেশনা। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ‘চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠ’ রানার-আপ শিল্পী মেহেদী হাসান তার জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন। তার প্রাণবন্ত পরিবেশনায় পুরো মিলনমেলা উৎসবের আবহে মুখর হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানের সার্বিক সাফল্য কামনা করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থানরত জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা শুভেচ্ছা ও শুভকামনা বার্তা পাঠান, যা অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয়।

পরিবারকেন্দ্রিক নানা বিনোদনমূলক আয়োজন, আন্তরিক মিলন, স্মৃতিবিজড়িত আলোকচিত্র ধারণ এবং নৈশভোজের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী পুনর্মিলনীর সফল সমাপ্তি ঘটে।
আয়োজকরা জানান, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসে বসবাসরত জগন্নাথ হলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সৌহার্দ্য ও বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের পুনর্মিলনীর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।










