সাইপ্রাসের লারনাকা শহরে অনিয়মিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে দেশটির পুলিশ। অভিযান চলাকালে গ্রেফতার এড়াতে একটি বহুতল ভবনের ব্যালকনি ও জানালা থেকে নিচে ঝাঁপ দেন তিন অভিবাসী।
এ সময় একজন মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। বাকি দুজনেই গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বুধবার (২৭ মে) লারনাকার বেশ কয়েকটি জেলায় তদন্তের পর এই আকস্মিক চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ ও স্থানীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় গণমাধ্যম ও সাইপ্রাস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, লারনাকা শহরের একটি নয় তলার আবাসিক ভবনে যৌথ অভিযান চালানো হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো ভবনের পাঁচটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক ঘিরে ফেলে তল্লাশি শুরু করলে ভেতরে থাকা অভিবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সংবাদসংস্থা ডিপিএ জানিয়েছে, অভিযানের সময় এক ব্যক্তি চার তলা থেকে ভবনের ভেতরের উঠানে ঝাঁপ দেন। এতে তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান।
উদ্ধারকারীরা তাকে উদ্ধার করার কিছুক্ষণ পর, জরুরি সেবা কর্মীরা ভবনের পেছনের আরেকটি অংশ থেকে আরও দুজন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করেন। তারা জানালা বা ব্যালকনি দিয়ে লাফিয়ে পড়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আহত তিনজনকে তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাম্বুলেন্সে করে লারনাকার একটি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রথম জনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম ‘রিক’ এবং ‘কাথিমেরিনি’র রিপোর্ট অনুযায়ী, এই অভিযানে ব্যাপক সংখ্যক অনিয়মিত অভিবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে ১০ থেকে ২২ জন অভিবাসীকে আটক করার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে, যাদের কাছে সাইপ্রাসে বৈধভাবে বসবাসের কোনো অনুমতিপত্র ছিল না।
স্থানীয় বাসিন্দারা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বহুতল ভবনটির বেশ কয়েকটি ফাঁকা ফ্ল্যাটে অনিয়মিত অভিবাসীরা অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন। ফ্ল্যাটগুলোর ভেতরে তারা অত্যন্ত ঘিঞ্জি ও দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থায় দিনাতিপাত করছিলেন, যা অত্যন্ত অমানবিক।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ‘ইউরোস্ট্যাট’-এর সাম্প্রতিক (২০২৫) তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপে আশ্রয়প্রার্থীদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবিন্দু হয়ে উঠেছে সাইপ্রাস।










