১৯৭৩ সালের কথা! সেবার ২৩তম বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে গোল্ডেন বিয়ার জয় করে সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’! সে ছবির নায়িকা ছিলেন বাংলাদেশের অভিনেত্রী ববিতা। এ বছর বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক পাচ্ছেন সেই অভিনেত্রী।
আজ (৫ ফেব্রুয়ারি) বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমি মিলনায়তনে এক বিফ্রিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
‘অশনি সংকেত’ ছবির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে প্রশংসা পেয়েছিলেন ববিতা। তারপর থেকে তার প্রাপ্তির কোনো সীমা নেই। অভিনয় করেছেন সাড়ে তিন শতাধিক সিনেমায়। ১৯৭৫ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রবর্তনের পর তিনবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছেন। ১৯৮৫ সালে আবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী, ১৯৯৬ সালে শ্রেষ্ঠ প্রযোজক, ২০০২ ও ২০১১ সালে পার্শ্ব চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন ববিতা। ২০১৬ সালে তাকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা জানানো হয়।

নন্দিত চলচ্চিত্র নির্মাতা জহির রায়হানের ‘সংসার’ সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে ববিতার অভিষেক হয় ১৯৬৮ সালে। তখন তার নাম ছিল ফরিদা আক্তার পপি। পরে আব্দুল্লাহ আল মামুনের টেলিভিশন নাটক ‘কলম’-এ অভিনয় করেন তিনি। জহির রায়হানের ‘জ্বলতে সুরুজ কি নিচে’ ছবিতে অভিনয়ের সময় তাকে নাম দেওয়া হয় ‘ববিতা’।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসমাপ্ত উপন্যাস ‘অশনি সংকেত’। সেটিকে অবলম্বন করে ছবি বানান উপমহাদেশের খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়। ববিতার চলচ্চিত্রজীবনের উল্লেখযোগ্য সিনেমা এটি। পরে তিনি অভিনয় করেন ‘টাকা আনা পাই’, ‘স্বরলিপি’, ‘বাঁদী থেকে বেগম’, ‘লাঠিয়াল’, ‘সূর্যগ্রহণ’, ‘নয়নমনি’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘গোলাপী এখন ঢাকায়’, ‘কি যে করি’, ‘এক মুঠো ভাত’, ‘অনন্ত প্রেম’, ‘বসুন্ধরা’, ‘পোকামাকড়ের ঘর বসতি’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘জীবন সংসার’, ‘দীপু নাম্বার টু’, ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’, ‘এখনো অনেক রাত’, ‘ম্যাডাম ফুলি’, ‘হাছন রাজা’, ‘চার সতীনের ঘর’ সিনেমাগুলোয়।
বর্তমানে কানাডায় থাকেন অভিনেত্রী ববিতা। মাঝে মাঝে বাংলাদেশে বেড়াতে আসেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ববিতার ছেলে অনিক বেশ কয়েক বছর ধরে কানাডা-প্রবাসী। পড়াশোনা শেষ করে সেখানে চাকরি করছেন তিনি। ছেলে চান মা তার কাছাকাছি থাকুক। তাই বছরের একটা নির্দিষ্ট সময় কানাডায় থাকেন অভিনেত্রী ববিতা।










