তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবারের মতো দিল্লি সফরে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
প্রায় ২০ মিনিটের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় তামিলনাড়ু-সংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন এবং সেগুলো বিবেচনার অনুরোধ জানান।
বৈঠকে তিনি সম্প্রতি হল্যান্ড থেকে প্রাচীন তাম্রফলক ফিরিয়ে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ধন্যবাদ জানান।
এ সময় তিনি কর্ণাটকের মেকেদাতু বাঁধ প্রকল্পের বিষয়টিও উত্থাপন করেন। বিজয়ের অভিযোগ, কর্ণাটক সরকার একতরফাভাবে এই বাঁধ নির্মাণ করলে তামিলনাড়ুর নিচের অংশে পানির প্রবাহ কমে যাবে এবং তা কাবেরী পানি ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরিপন্থি হবে।
তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন, কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রণালয়কে যেন এই প্রকল্পের অনুমোদন না দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
সম্প্রতি কর্ণাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা দেন, মেকেদাতু প্রকল্পের সংশোধিত বিস্তারিত প্রতিবেদন শিগগিরই কেন্দ্রের কাছে জমা দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পের বিরোধিতা করার কোনো অধিকার তামিলনাড়ুর নেই। এরপরই দুই রাজ্যের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।
বিজয় বৈঠকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তোলেন—সরকারি অনুষ্ঠানের শুরুতে রাজ্যের সংগীত বাজানোর অনুমতি দেওয়ার।
এটি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চলতি বছরের জানুয়ারির নির্দেশনার প্রেক্ষাপটে এসেছে। ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, জাতীয় সংগীত ও জাতীয় গান একসঙ্গে পরিবেশিত হলে প্রথমে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘বন্দে মাতরম’-এর ছয়টি স্তবক গাইতে হবে।
বিজয়ের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার পর জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’ এবং পরে রাজ্যের গান ‘তামিল থাই ভাঝথু’ পরিবেশন করা হয়েছিল।
বিজয়ের দল টিভিকে বিধানসভা নির্বাচনে ১০৮টি আসনে জয়ী হয়ে বৃহত্তম দলে পরিণত হয়। পরে কংগ্রেস, সিপিআই, সিপিআই(এম), ভিসিকে ও আইইউএমএল সদস্যদের সমর্থনে তিনি ১৩ মে আস্থা ভোটে জয় পান।









