মালদ্বীপের অন্যতম প্রষিদ্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মিয়াঞ্জ কলেজের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশেষ উপহার হিসেবে অর্কিড বৃক্ষের চারা পেয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম। কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আহমেদ মোত্তাকি হাইকমিশনারের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাজধানী মালের গিয়াসউদ্দিন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অডিটোরিয়ামে উৎসবমুখর পরিবেশে মিয়াঞ্জ কলেজের সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষার্থীদের অসাধারণ সাফল্যে ও কলেজটির দীর্ঘ পথচলা নিয়ে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখায় প্রতিষ্ঠানটির স্কুল অব এগ্রিকালচারালের পক্ষ থেকে তাকে এ উপহার দেয়া হয়।
কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও শিক্ষা উদ্যোক্তা আহমেদ মোত্তাকির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. নাজমুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপের উচ্চশিক্ষা, শ্রম ও দক্ষতা উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. আব্দুল রহিম হাসান। এবার সমাবর্তনে লেবেল থ্রি থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৬৬৪ জন শিক্ষার্থীকে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।
মিয়াঞ্জ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ ও উদ্যোক্তা আহমেদ মোত্তাকি বলেন, ২০০৬ সালে মাত্র ১৯ জন শিক্ষার্থী দিয়ে শুরু হয় কলেজ। ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই কলেজ থেকে ১৫ হাজারেরও বেশি স্নাতক বের হয়েছে। যা কলেজটির অসামান্য উন্নয়নের প্রতিফলন।
এই শিক্ষা উদ্যোক্তা জানান, মিয়াঞ্জ কলেজের রাজধানী মালেসহ বিভিন্ন দ্বীপে মোট ১৭টি শাখা রয়েছে। পাশাপাশি কলেজটি ২০২২ সালে কৃষি ফ্যাকাল্টি হিসেবে মালদ্বীপের আড্ডু শহরে স্কুল অব এগ্রিকালচারালের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমও শুরু করেছে। আগামীতে কলেজটিকে একটি পরিপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করাসহ বাংলাদেশেও একটি শাখা খোলার প্রত্যাশার কথা জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. নাজমুল ইসলাম স্নাতক উত্তীর্ণ সকল শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান। একইসাথে মালদ্বীপের শিক্ষাখাতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করার জন্য কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা আহমেদ মোত্তাকিকেও আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি।
এ সময় হাইকমিশনার বিশেষভাবে উল্লেখ করেন মিয়াঞ্জ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা আহমদ মোত্তাকিকে এবং মালদ্বীপে তার অবদান বাংলাদেশের সফট পাওয়ার,পাওয়ার অব বন্ডিং,এবং দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী জনগণ-থেকে-জনগণের সম্পর্কের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
তিনি উল্লেখ করেন, মালদ্বীপের শিক্ষা, সমাজ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশিদের ইতিবাচক অবদান আজ দুই দেশের বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করেছে। মোত্তাকির নেতৃত্বে মিয়াঞ্জ কলেজ দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের বাস্তব মডেলে পরিণত হয়েছে।
হাইকমিশনার তার বক্তব্যে আরও বলেন, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের সম্পর্ক বহুদিনের যা গড়ে উঠেছে অভিন্ন মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক বন্ধন, সামুদ্রিক ইতিহাস ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ওপর। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।










