চলতি বছর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পরেই শুরু হয়েছিল ভাঙ্গন। তৃণমূলের মধ্যেই তৈরি হয় আরেকটি তৃণমূল। উলুবেড়িয়া পূর্ব আসনের তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যা পরিচিত ‘নতুন তৃণমূল ব্লক’ নামে।
এরই মধ্যে বিধানসভায় বিরোধী দলের দলনেতা নির্বাচিত হয়েছেন বিদ্রোহী তৃণমূল নেতা ঋতব্রত। তার দাবি অনুযায়ী, এই ব্লকে রয়েছেন ৬৫ জন বিধায়ক, রয়েছেন প্রায় অর্ধশতাধিকের বেশি সাবেক ও বর্তমান কাউন্সিলরও।
গত সোমবার (২২জুন) রাতের নিউটাউনে একটি অভিজাত হোটেলে নতুন তৃণমূলের বিধায়ক, কাউন্সিলরদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে নিজেদের অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস কমিটি এবং জাতীয় কর্ম সমিতি গঠন করা হয়।
তবে এই বৈঠকে মমতা ব্যানার্জী কিংবা অভিষেক ব্যানার্জী কাউকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এমনকি এদিনের বৈঠকে যে ‘ব্যাকড্রপ’ করা হয়েছিল তাতে তৃণমূলের প্রতীক ঘাসফুল চিহ্ন এবং অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস শব্দগুলি লেখা থাকলেও তাতে মমতা ব্যানার্জী বা অভিষেকের কোনো ছবিও ছিল না। এর পরিবর্তে সেখানে স্থান পেয়েছিল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী এবং সংবিধান রচয়িতা বি আর আম্বেদকরের ছবি।
দলের পক্ষ থেকে যে জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করা হয়েছে, সেখানেও স্থান হয়নি মমতা ব্যানার্জী কিংবা তার ভাতিজা অভিষেক ব্যানার্জীর।
পরে সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সব আইন ও সংবিধান মেনে এই স্পেশাল সেশন সম্পন্ন হয়েছে। সেখানেই সর্বসম্মতিক্রমে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস কমিটি এবং জাতীয় কর্ম সমিতি গঠন করা হয়েছে। জাতীয় কর্মীর সমিতিতে মোট ৩০ জন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি সর্বসম্মতিতে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপারসন নিযুক্ত করা হয়েছে অরূপ রায়কে।
নতুন কমিটির সহ-সভাপতি হয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, রথীন ঘোষ, অরূপ বিশ্বাস এবং সাবিনা ইয়াসমিন। দলের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে জাভেদ আহমেদ খান, সন্দীপন সাহা, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, বিপ্লব মিত্রকে। কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন আখরুজ্জামান। সাংগঠনিক যে প্রক্রিয়া পাহাড় থেকে সাগর পর্যন্ত রাজ্য কমিটির গঠন করা, জেলা সভাপতি, রাজ্য সভাপতি, জেলা কমিটি গঠন শাখা সংগঠন এবং মুখপাত্রদের প্যানেল ঘোষণা করা হবে।
অভিষেক ব্যানার্জীকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, যাকে নিয়ে কোন আলোচনাই হয়নি তাকে বহিষ্কারের প্রসঙ্গ উঠছে কিভাবে! তিনি বলেন, চার্টার্ড অভিষেককে নিয়ে এই দিনের বৈঠকে কোনো চর্চাই হয়নি।
মমতা ব্যানার্জীর প্রসঙ্গ উঠতেই এদিনও আরও একবার ঋতব্রত ব্যানার্জি জানান, তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো কার্যকরী সমিতি ছিল না। সেজন্যই সবাই মিলে নতুন করে কমিটি গঠন করেছে। আমরা চাই মমতা ব্যানার্জী আমাদের পরামর্শ দাতা হিসাবে থাকুন।
কমিটির চেয়ারপার্সন অরূপ রায় জানান, পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে যে পরিস্থিতি চলছে তা মোকাবিলা করে আমাদের নতুন করে কর্মীদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে হবে, নতুন করে কর্মীদের একত্রিত করতে হবে। সর্বসম্মতভাবে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের অল ইন্ডিয়া কমিটি এবং ওয়ার্কিং কমিটি তৈরি হয়েছে। ওই কমিটি দিয়ে সকলে মিলে আমরা একসঙ্গে সব কর্মীকে সাথে নিয়ে কাজ করবো। তিনি আরও বলেন, ১৯৯৮ সাল থেকে যেভাবে মানুষের স্বার্থে আমরা লড়াই করেছি, সেভাবে লড়াই করে যাব। কারণ সামনে অনেক কঠিন লড়াই। কর্মীরা যেন তাদের সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে চলতে পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। এটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।
এ বিষয়ে মমতা ব্যানার্জীর ঘনিষ্ঠ বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস আর মমতা ব্যানার্জী সমার্থক শব্দ। আমাদের দলের যা গঠনতন্ত্র বা কাঠামো, তাতে এগুলো করার এখতিয়ার ওদের (বিদ্রোহী গোষ্ঠীর) নেই।









