নির্বাচনি প্রচারণায় ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে যুদ্ধবিরোধী হিসেবে তুলে ধরে বিরোধীদের ‘যুদ্ধবাজ’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ উল্টো। একের পর এক দেশকে সামরিক হামলার হুমকি দিয়ে এবং বাস্তবে আক্রমণ চালিয়ে এক বিস্ময়কর তালিকা তৈরি করেছেন তিনি।
গত বুধবার (২৭ মে) হোয়াইট হাউজে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ওমানকে হুমকি দিয়ে এই তালিকায় নতুন মাত্রা যোগ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানকে সহযোগিতা করে ওমান যদি হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে, তবে তাদের ওপরও হামলা চালানো হবে। কোনো পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই অত্যন্ত আকস্মিকভাবে তিনি এই হুমকি দেন।
হুমকির তালিকায় ১৫ দেশ
দুই মেয়াদে এ পর্যন্ত ওমানসহ বিশ্বের অন্তত ১৫টি দেশে ট্রাম্প সরাসরি সামরিক হামলা চালিয়েছেন কিংবা হামলার হুমকি দিয়েছেন। বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশের হিসাব ধরলে, প্রতি ১৩টি দেশের মধ্যে একটি এখন ট্রাম্পের নিশানায় রয়েছে।
এই ১৫টি দেশের মোট জনসংখ্যা হিসাব করলে দেখা যায়, বিশ্বের প্রতি ১১ জন মানুষের মধ্যে একজন ট্রাম্পের সামরিক আগ্রাসনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ট্রাম্পের এই আগ্রাসী নীতি কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এশিয়া, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা—বিশ্বের চার মহাদেশেই ছড়িয়ে পড়েছে তার এই হুমকির জাল।
ট্রাম্পের ‘পাগলাটে নীতি’
চলতি মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসন ইরান, ইরাক, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া, ভেনিজুয়েলা এবং ইয়েমেনে সরাসরি বিমান বা ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর বাইরে ক্যারিবীয় সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক চোরাচালান বিরোধী অভিযানের নামে ৬০টিরও বেশি নৌযানে হামলা চালিয়ে প্রায় ১৯০ জনকে হত্যা করা হয়েছে।
পাশাপাশি কানাডা, কলম্বিয়া, কিউবা, গ্রিনল্যান্ড (ডেনমার্কের অংশ), মেক্সিকো, পানামা এবং ওমানকে সামরিক হামলার তালিকায় রেখেছে ওয়াশিংটন। কেবল চলতি বছরই ইরান ও ভেনিজুয়েলা—এই দুটি দেশে পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী এবং কিউবা রয়েছে তাদের পরবর্তী সম্ভাব্য তালিকায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প মূলত কূটনীতিতে তার বহুল পরিচিত ‘ম্যাডম্যান থিওরি’ বা পাগলাটে নীতি ব্যবহার করছেন। নিজেকে অননুমেয় ও চরম বিপজ্জনক হিসেবে উপস্থাপন করে প্রতিপক্ষকে নিজের শর্ত মানতে বাধ্য করাই তার মূল লক্ষ্য। তবে এই অতি-আগ্রাসী অবস্থান বিশ্বশান্তির জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনছে।








