এক দিনের জন্য যেন প্যারিসের এক কোণে গড়ে উঠেছিল ছোট্ট এক বাংলাদেশ। চারদিকে বাংলা ভাষার কোলাহল, পরিচিত মুখের হাসি, দেশীয় খাবারের সুবাস, শিশুদের ছুটোছুটি আর মঞ্চজুড়ে বাংলা গানের উচ্ছ্বাস। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনকে কয়েক ঘণ্টার জন্য পেছনে ফেলে হাজারো বাংলাদেশি মিলিত হন ‘ফ্রাঙ্কো বাংলা সামার ফেস্ট’-এ।
ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় পরিসরের সাংস্কৃতিক আয়োজনের সংখ্যা বাড়ছে। তবে এবারের আয়োজনটি ছিল আকার, দর্শকসমাগম এবং বৈচিত্র্যের দিক থেকে ব্যতিক্রমী।

অনুষ্ঠানস্থলে দুপুর থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নতুন প্রজন্মের অনেকের মুখে বাংলা ও ফরাসি, দুই ভাষাই সমান স্বচ্ছন্দ।
মঞ্চের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি রকশিল্পী নগর বাউল জেমস। তার জনপ্রিয় গানগুলো শুরু হতেই দর্শকদের কণ্ঠ মিলিয়ে যায় শিল্পীর সঙ্গে। প্রবাসে থেকেও দেশের গানের প্রতি মানুষের আবেগ যে এতটুকু কমেনি, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে প্রতিটি পরিবেশনায়।
রাহুল আনন্দ তার স্বতন্ত্র লোকসংগীতধর্মী পরিবেশনায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করেন। ব্যান্ড ‘এরর ৪০৪’-এর ইমতিয়াজ রনি এবং অন্য শিল্পীরাও দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন দীর্ঘ সময়।
তবে আয়োজনটি শুধু সংগীতনির্ভর ছিল না। দিনের প্রথম ভাগেই উৎসব প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে শিশুদের প্রাণচাঞ্চল্যে। তাদের জন্য আয়োজন করা হয় নানা ধরনের বিনোদনমূলক ও অংশগ্রহণভিত্তিক ইভেন্ট, যেখানে ছোট্ট প্রতিযোগিতা, খেলাধুলা ও আনন্দঘন কার্যক্রমে অংশ নেয় প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারের শিশুরা।

এছাড়া পুরো প্রাঙ্গণজুড়ে ছিল ফুচকা, চটপটি, বিরিয়ানি, কাবাব, পিঠা থেকে শুরু করে নানা ধরনের দেশীয় খাবারের স্টল। পোশাক, অলংকার ও বিভিন্ন পণ্যের স্টল ঘুরেও দর্শনার্থীরা সময় কাটিয়েছেন।
অনুষ্ঠানের আরেকটি আলোচিত আকর্ষণ ছিল লটারি। দর্শনার্থীদের জন্য একটি বিএমডব্লিউ গাড়িসহ মোট ১০টি পুরস্কার রাখা হয়। লটারিতে বিএমডব্লিউ গাড়ির বিজয়ী হন রেজওয়ানা চৌধুরী মিম। বিজয়ীর নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থলে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে আয়োজকদের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য দেন শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান সাত্তার আলী সুমন (শাহ আলম)। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে শাহ গ্রুপ ও অফিওরা। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অফিওরার পরিচালক কৌশিক রাব্বানী।
অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য দেন ফরাসি জাতীয় পরিষদের সদস্য কার্লোস বিলঙ্গো এবং সারসেল সিটির ডেপুটি মেয়র নাবিল শাবান। তারা বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবদানের প্রশংসা করেন এবং এ ধরনের আয়োজন দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করতে ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন।
ফ্রান্সে বাংলাদেশি কমিউনিটি সংখ্যায় যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে তাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও। জাতীয় দিবস, বইমেলা, বৈশাখ কিংবা ঈদ, এসব আয়োজনের সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে বড় পরিসরের উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক উৎসব।
এসব আয়োজন প্রবাসীদের মধ্যে যোগাযোগ, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও তৈরি করছে বলে মত দিয়েছেন একাধিক অংশগ্রহণকারী।










