দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করা এবং নারীদের স্বাবলম্বী করতে আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার ‘কৃষক কার্ড’ এবং মায়েদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে এখন থেকে স্নাতক (ডিগ্রি) পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজারে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোটের দাগ শুকানোর আগেই আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি।
আমরা খাল খননের কাজ শুরু করেছি, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কার্যক্রমও শুরু করেছি।
তারেক রহমান বলেন, আমাদের দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী।দেশনেত্রী খালেদা জিয়া মেয়েদের ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। মেয়েরা শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী না হলে দেশ এগোতে পারবে না।তাই বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, স্নাতক বা ডিগ্রি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা সম্পূর্ণ ফ্রি করা হবে। শুধু তাই নয়, যারা ভালো ফলাফল করবে তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বাজেটে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে। এসব গ্রামীণ পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে মায়েদের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেওয়া হবে।
দেশের মানুষের চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ যাতে স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা পায়, সেদিকে আমরা বিশেষ নজর দিয়েছি। আগে একটি হার্টের রিং পরাতে প্রায় সোয়া লাখ টাকা খরচ হতো। আমরা হার্টের রিং ও কিডনি ডায়ালাইসিস-সংক্রান্ত ওষুধের ওপর থেকে ট্যাক্স ও ভ্যাট প্রত্যাহার করেছি। আগামী জুলাই থেকে এ খরচ অর্ধেকেরও নিচে নেমে আসবে।
সদ্য প্রস্তাবিত বাজেটের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেটের পর সাধারণত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ে। কিন্তু আল্লাহর রহমতে এবার কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। কারণ, চাল, ডাল, তেল, লবণসহ ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে বর্তমান সরকার ট্যাক্স প্রত্যাহার করেছে।
দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় বিদেশি পণ্যের ওপর কর বাড়ানোর বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা কৃষিপ্রধান দেশ হলেও শিল্প ও বাণিজ্য খাতকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। তাই দেশে উৎপাদিত পণ্যের সমজাতীয় বিদেশি পণ্যের ওপর আমরা কর বাড়িয়েছি, যাতে দেশীয় শিল্পকারখানাগুলো প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে পারে। পাশাপাশি মানুষের জন্য ক্ষতিকর মদ ও সিগারেটের ওপরও কর বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ওপর ট্যাক্স কমালাম, হার্টের রিংয়ের ট্যাক্স কমালাম; কিন্তু বিরোধী দল বলে তারা এই বাজেট মানে না। আমরা মদ ও সিগারেটের ওপর ট্যাক্স বাড়ালাম, বিদেশি পণ্যের ওপর কর বাড়ালাম; বিরোধী দল সেটিও মানে না। তাহলে তারা আসলে কী চায়? তাদের একটাই লক্ষ্য—দেশে অস্থিতিশীলতা ও অশান্তি সৃষ্টি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা। তারা জনগণের বন্ধু নয়।
জনগণের শক্তির ওপর আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের মালিক কোনো রাজনৈতিক দল বা পরিবার নয়, দেশের মালিক ২০ কোটি জনগণ। জনগণের সমর্থনই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। যতক্ষণ আমাদের ধড়ে প্রাণ থাকবে, আমরা এই দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান উচ্চারণ করে দেশের সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
পথসভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।









