তৃতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্ট জয় করেছেন নুরুননাহার নিম্নি।
বুধবার (২৭ মে) নেপালের স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ২৪ মিনিটে তিনি সফলভাবে এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করেন। অভিযান ব্যবস্থাপনা সংস্থা ‘৮কে এক্সপেডিশন’ থেকে অ্যাঙ তেম্বা শেপরা আনুষ্ঠানিকভাবে এই গৌরবময় তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের সভাপতি ও এভারেস্ট আরোহী ইকরামুল হাসান শাকিল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিম্মি চূড়ান্ত আরোহণের লক্ষ্যে গত ২৫ মে ক্যাম্প-২ (৬ হাজার ৪০০ মিটার) থেকে যাত্রা শুরু করেন এবং রাতে ক্যাম্প-৩ (৭ হাজার ২০০ মিটার) এ অবস্থান করেন। ২৬ মে ভোরে তিনি ক্যাম্প-৩ থেকে রওনা হয়ে দুপুর আড়াইটা নাগাদ ক্যাম্প-৪-এ পৌঁছান।
সেখানে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নেওয়ার পর তিনি চূড়ার উদ্দেশে তার চূড়ান্ত অভিযান শুরু করেন। সারারাত দুর্গম ও প্রতিকূল পথ পেরিয়ে বুধবার ভোরে তিনি এভারেস্টের শীর্ষবিন্দুতে পৌঁছান এবং পরম গৌরবে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা তুলে ধরেন। তার সঙ্গে ছিলেন দাওয়া নুপু শেরপা ও লাকপা থিনদুক শেরপা।
অভিযাত্রী নুরুননাহার নিম্মি ১১ এপ্রিল নেপালের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। এভারেস্ট অভিযানটি পরিকল্পনা করেছে বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব এবং স্পনসর করেছে পূবালী ব্যাংক পিএলসি।
অষ্টম বাংলাদেশি হিসেবে নিম্মির এই অনন্য কৃতিত্বে দেশের পর্বতারোহণের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো।
আগের জয়ী বাংলাদেশিরা
২০১০ সালের ২৩ মে মুসা ইব্রাহীম বাংলাদেশের প্রথম এভারেস্টজয়ী হিসেবে ইতিহাস গড়েন। ২০১১ সালের ২১ মে এম এ মুহিত দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন। পরের বছর ২০১২ সালের ২০ মে তিনি আবারও পর্বতটির চূড়ায় ওঠেন।
২০১২ সালের ১৯ মে নিশাত মজুমদার বাংলাদেশের প্রথম নারী এভারেস্টজয়ী হন। একই বছরের ২৬ মে ওয়াসফিয়া নাজরীন এভারেস্ট জয় করেন।
মোহাম্মদ খালেদ হোসেন ২০১৩ সালের ২১ মে এভারেস্ট জয় করেন। তিনি সজল খালেদ নামে পরিচিত। দুর্ভাগ্যবশত, চূড়া জয় করার পর নামার পথে ৮,৬০০ মিটার উচ্চতায় ‘অজানা কারণে’ মারা যান খালেদ।
২০২৪ সালের ১৯ মে বাবর আলী এভারেস্ট জয় করেন, যা এক দশকের ব্যবধানে বাংলাদেশের পুনরায় চূড়া ছোঁয়ার মুহূর্ত। গত বছরের ১৯ মে ইকরামুল হাসান শাকিল এভারেস্টের চূড়ায় পা রাখেন।









