ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামে পূর্ব শত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার ফলসী ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার (১৯ জুন) পুকুরের মাছ ধরা নিয়ে সন্দেহের জেরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রকিবুল ইসলামকে মারধরের ঘটনা ঘটে। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রহমানের ছোট ভাই।
ওই ঘটনার জের ধরে শনিবার সকালে বোয়ালিয়া গ্রামে বজলুর রহমান চেয়ারম্যান গ্রুপের লোকজনের সাথে বিএনপি সমর্থিত মশিয়ার রহমান (সাবেক ইউপি সদস্য) সমর্থকদের বাকবিতন্ডা শুরু হয়।
এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের লোকজন ঢাল, লাঠি, রামদা ও গ্রাম্য অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন, ছানোয়ার হোসেন ছনো (৫৫), মিজান আলী (৪৫), বিভান আলী (২২), ঝন্টু মিয়া (৪৫), মতিয়ার রহমান (৫০), আক্তার মোল্লা (৩২), রাশিদুল ইসলাম (৩৫), বরকত মোল্লা (৪০), ফেন্টু মিয়া (৫০), মশিয়ার মেম্বার (৪২), গোলাপফার (৪৯), তোজিবার মোল্লা (৬৫), কবির মন্ডল (৩০), রুবেল মন্ডল (৩২), কাবিল (৪০), তোতা মিয়া (৩৪), নুর আলী (৫৪) ও বাচ্চু মিয়া (৩২)।
এর মধ্যে গুরুতর আহত পাঁচজনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ও তিনজনকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
সাবেক ইউপি সদস্য মশিয়ার রহমান জানান, ‘তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র আমাদের সমর্থকদের ওপর হামলা চালায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যানের লোকজন। আমাদের ৬/৭ জন আহত হয়েছেন’।
এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা বজলুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) অসিত কুমার রায় জানান, খবর পর পর ওই গ্রামে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।









